২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়া। চেষ্টাও ছিল তেমন। কিন্তু অভিজ্ঞতা না থাকায় বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নিজেদের প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। আট দলের বিশ্বকাপে সাতে থেকে শেষ করেছিল। পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা পেয়েছিল দল। এরপর ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকাকে প্রায় বাগে পেয়ে গিয়েছিল টাইগ্রেসরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বীতা গড়ে বাংলাদেশ জয়ের পথেই ছিল। কিন্তু ১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে অবিশ্বাস্য হারের তিক্ত স্বাদ পায়। শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগিতে শেষ হয় বিশ্বকাপ যাত্রা।
বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশ ছয় মাস কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচের স্বাদ পায়নি। প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল তা বারবার বলেছিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। বছর পেরিয়ে আরেকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ অংশ নেবে দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। বাছাইপর্বে সাত ম্যাচের সাতটি জিতে অপরাজিত দল হিসেবে বাংলাদেশ পেয়ে গেছে বিশ্বকাপের টিকিট।
তবে বিশ্বকাপে শুধুমাত্র অংশগ্রহণের জন্যই যেতে চান না বাংলাদেশের অধিনায়ক। প্রভাববিস্তারকারী পারফরম্যান্স করে সমর্থকদের প্রত্যাশা, নিজেদের মেলে ধরার কাজ করতে চান। এজন্য বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার চাওয়া বাংলাদেশ নারীদের। রবিবার নেদারল্যান্ডসকে হারানোর পর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেছেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। এজন্য প্রস্তুতিটাও আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে আমরা যদি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যেতে পারি…এর আগে আমরা যতগুলো টুর্নামেন্ট (আইসিসি ইভেন্ট) খেলেছি নিজেদেরকে ওইভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা হয়তো বা নিজেদের মতো করে ঘরোয়া আবহে প্রস্তুতি নিয়েছি। সেখানেও সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা ছিল।’’
‘‘আমরা শুধুমাত্র অংশগ্রহণ করার জন্য ইংল্যান্ডে যাবো না। আমরা ওখানে ম্যাচ জিততে চাই এবং দেশের জন্য প্রভাববিস্তারকারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ উপহার দিতে চাই। এজন্য দল হিসেবে এবং আমার ব্যক্তিগতভাবে চাওয়া, বিশ্বকাপের আগে যদি আমরা টি-টোয়েন্টিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলতে পারি…যেমন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ হোক বা টুর্নামেন্ট হোক…আমার মনে হয় দলকে বুস্ট করবে। আমাদের প্রস্তুতির জন্য ভালো হবে।’’ – যোগ করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।
নেপালে বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষদের বিপক্ষে সেরা পারফর্ম করেই বাংলাদেশ সেরা হয়েছে। নিজেদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট বাংলাদেশের অধিনায়ক। এজন্য সতীর্থদের কৃতিত্ব দিলেন তিনি, ‘‘আমরা আমাদের টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচটি খেললাম। নেপালে আসার আগে আমাদের দলগত লক্ষ্য ছিল প্রথমে আমাদের কোয়ালিফাই নিশ্চিত করা। তারপর ব্যাক অব দ্য মাইন্ড এটা ছিল, আমরা এই টুর্নামেন্টটা জিততে চাই। মানে অপরাজিত থাকতে চাই। আমরা তা করতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণ ক্রেডিট মেয়েদের। মেয়েরা অসম্ভব ভালো খেলেছে পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। যার যেটা ভূমিকা ছিল তা করার চেষ্টা করেছে।’’
‘‘বিশেষ করে বলবো, সব সময় আমাদের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে অনেক সময় কথা হয়। আমরা ধারাবাহিক পারফর্ম করতে পারি না। কিন্তু এই প্রতিযোগিতায় কিন্তু ব্যাটসম্যানরা বেশ ভালোভাবে ডোমিনেট করেছে। বোলাররাও সাথে সাথে কন্ট্রিবিউট করেছে। যে যেখানে পেরেছে। আমার কাছে মনে হয় দলগতভাবে আমরা বেশ ভালো অবদান রাখতে পেরেছি। অনেক বেশি ধারাবাহিক ছিলাম। আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পেরেছি এজন্য বেশি আনন্দিত। ’’ – যোগ করেন তিনি।
ব্যাটিংয়ে সোবহানা মোস্তারি ৭ ইনিংসে ২৬২ রান করেছেন। এছাড়া দুইশর কাছাকাছি গিয়েছেন শারমিন সুলতানা। ৭ ইনিংসে তার রান ১৯৫।