বিনোদন

আমার প্রিয় কনটেন্ট রাজনৈতিক মিথ‍্যাচার: শবনম ফারিয়া

ছোট ও বড় পর্দার আলোচিত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া খানিকটা ‘ঠোঁটকাটা’ স্বভাবের। ব্যক্তিগত ও সমকালীন বিষয় নিয়ে তাকে খোলামেলা কথা বলতে দেখা যায়। গতকাল স্বামীর প্রশংসা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। এরই মধ্যে চলমান রাজনীতি নিয়ে দীর্ঘ একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যা নিয়ে চলছে নানা চর্চা। 

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ভেরিফায়েড ফেসবুকে পোস্টটি দেন শবনম ফারিয়া। শুরুতে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার ধৈর্য একটু কমই ছিল আগে। যেহেতু আমি বাসায় সবার ছোট ছিলাম আর একা বড় হয়েছি, যখনই যা চাইতাম পেতাম, বেশিরভাগ সময় তো চাওয়ার আগেই পেতাম। তবে ২০২০ সালে কোভিডের পর থেকে আমার অ্যাবনরমাল লেভেলের ধৈর্য চলে এসেছে। সবকিছুতেই! আমি এখন আর কোনো কিছুতেই অল্পতে ধৈর্য হারাই না।” 

উদাহরণ টেনে শবনম ফারিয়া বলেন, “একটা উদাহরণ দিই, সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার সবচেয়ে প্রিয় কনটেন্ট হলো কার্পেট পরিষ্কার করার ভিডিও। আমি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কার্পেট পরিষ্কার করা দেখতে পারি। আমার আরেকটা পছন্দের ভিডিও হলো হারমেস ব্যাগ কেনা-বেচার ভিডিও। একটা বারকিন বা কেলি ব্যাগের দাম আমার বাৎসরিক ইনকামের চেয়েও বেশি। এইরকম ইনকাম থাকলে জীবনে এই জিনিস কেনার কথা না (যদিও আমার জামাই বলেছে, সে একদিন না একদিন বড়লোক হবে আর আমাকে একটা বারকিন কিনে দেবে)। কিন্তু এই ব্যাগের সেকেন্ডারি মার্কেটে কেনা-বেচা দেখা আমার ডেইলি রুটিনের একটা অংশ।” 

এরপর আরো কয়েকটি উদাহরণ টানেন শবনম ফারিয়া। তার ভাষায়, “আমি এখন জানি, কি কি চামড়া দিয়ে এই ব্যাগ বানানো হয়, কি কি সাইজে পাওয়া যায়, কি কি হার্ডওয়্যার ব্যবহার হয়, আর ‘হিমালায়ান’ নামে একটা বারকিন আছে, যার দাম প্রায় বাংলাদেশের জিডিপির সমান! তারপর আমার আরেকটা সবচেয়ে প্রিয় কনটেন্ট হলো, একজন মানুষ একটা পুরোনো বাড়ি কিনে, নিজে নিজে আর প্রতিবেশীদের সাহায্য নিয়ে সেটার রিনোভেশন করে। ভাই, তোর রিনোভেট করার এত টাকা থাকলে তুই এই জঙ্গলে বাড়ি না কিনে একটা ঠিকঠাক স্বাভাবিক বাড়ি কিনতে পারতি! কিন্তু না, ভাঙাচোরা বাড়ি কিনবে, তারপর বছরের পর বছর ধরে সেটাই ঠিক করবে, আর আমি সেই ভিডিও দেখি।” 

একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিডিও দেখে বাস্তব জীবনে একা থাকার চেষ্টা করেন শবনম ফারিয়া। এরপর তার জীবনে আসে স্বামী তানজিম। এসব তথ্য স্মরণ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার সবচেয়ে পছন্দের কনটেন্ট ক্রিয়েটরের নাম লিজিকি। ওকে দেখে ইনস্পায়ার্ড হয়ে আমি একা থাকা শুরু করেছিলাম। নিজে নিজে সব কিনতাম, বাসা গুছাতাম, বাজার করতাম, রান্না করতাম। আবার আমার কাউন্সেলরের পরামর্শে সেগুলো ভ্লগ বানানোর ট্রাইও করেছিলাম। ৩/৪টা বানিয়েছিলাম, এরপর আর সম্ভব হয়নি। এভাবে দুই বছরের একটু বেশি সময় একা থেকে বাসার সবাইকে টেনশনে ফেলে দিয়েছিলাম। তারপর আর বেশিদিন লিজিকি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়নি, এরই মধ্যে তানজিম মিয়ার আগমন।” 

শবনম ফারিয়াকে বেশ জ্বালাতন করেন তার স্বামী তানজিম। তা জানিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “তবে এখনো কেনাকাটা আর গুছানোর কাজটা আমাকেই করতে হয়। ট্রলি ঠেলার জন্য উনি থাকেন, ঘরের কাজের সময় আজেবাজে কাজ করে কাজ বাড়ানো কিংবা গুছানো বাসা অগোছালো করার দায়িত্বও উনার। তবে আমি অসুস্থ হলে অবশ্য জ্বালায় না। বরং অনেক হেল্পই করে। কালকেই তো অনেক প্রশংসা করলাম, আর না করি।” 

শবনম ফারিয়ার দীর্ঘ এই বক্তব্যের মূল বিষয়বস্তু চলমান নির্বাচন নিয়ে পর্যবেক্ষণ। তার কথায়—“যাইহোক করোনাকালে আমার আরেকটা প্রিয় কনটেন্ট ছিল মানুষের খাওয়া দেখা। শুকনা-শুকনা মেয়েরা বিশাল থালায় খাবার খায়, আমি রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিয়মিত সেই খাওয়ার ভিডিও দেখতাম। তবে এই মুহূর্তে আমার প্রিয় কনটেন্ট রাজনৈতিক মিথ‍্যাচার। জানি, যা বলছে সবই মিথ‍্যা আশ্বাস, তাও মনোযোগ দিয়ে দেখি।” 

দুই ঘণ্টার মধ্যে শবনম ফারিয়ার এ পোস্টে রিঅ্যাক্ট পড়েছে প্রায় ৩ হাজার। মন্তব্য জমা পড়েছে দুই শতাধিক। ফারিয়া নামে একজন লেখেন, “আপু আমি সবটা পড়ে একদম ক্লান্ত হয়ে গেছি, তারপর মোরাল অব দ্য স্টোরি পাইছি।” রেজমেন আক্তার লেখেন, “আমিও বাসায় সবার ছোট। বরাবরই ধৈর্য কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে এফবিতে রাজনৈতিক মিথ্যাচারগুলা দেখি, দেখার পর বুঝতে পারতেছি, ধৈর্যের চরম লেবেলে আছি।” এমন অসংখ্য মন্তব্য কমেন্ট বক্সে ভেসে বেড়াচ্ছে।