আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশের জন্য অনুদান বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়েছে ভারত

মোদি সরকারের তৃতীয় মেয়াদের তৃতীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য অনুদান বাবদ বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমিয়েছে ভারত। নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৬০ কোটি রুপি। ভারতের ঋণ ও অনুদান বাবদ বিদেশি সহায়তা কর্মসূচিতে কৌশলগত আর্থিক খাত থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও বরাবরের মত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে আফগানিস্তান, নেপাল ভুটান মালদ্বীপ, শ্রীলংকা , মরিসাসসহ লাতিন আমেরিকা ও আফ্রিকার একাধিক দেশের জন্য। তবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি, ইরান বা ইরানে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন চাবাহার বন্দরের জন্য। 

নতুন অর্থবছরে বিদেশি সরকারগুলোকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে মোট ৮ হাজার ৭৯২ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রস্তাবিত ১২ হাজার ১০৭ কোটি রুপির তুলনায় ২৭ শতাংশ কম। নতুন অর্থবছরের এই মোট সহায়তার মধ্যে ৬ হাজার ৯৯৭ কোটি রুপি আসবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এবং অতিরিক্ত ১ হাজার ৭৯৪ কোটি রুপি দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়।

২০২৫- ২০২৬-এর বাজেট প্রস্তাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) বাংলাদেশের জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদানের প্রস্তাব দিয়েছিল, যা সম্পর্কে শীতলতার কারণে পরে সংশোধিত হিসাবের সময় কমিয়ে আনা হয়। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী এই অঙ্ক ছিল ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ রুপি। তবে নির্বাচনমুখী বাংলাদেশে আবারো এই অর্থ বাড়ানো হয়েছে। ভারতের নতুন অর্থবছরে বাংলাদেশকে দেওয়া অনুদান সহায়তা ৭৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দেওয়ার জন্য ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ রেখেছে ভারত সরকার। তবে গেল অর্থ বছরের তুলনায় এই অর্থ সরাসরি ৫০ শতাংশ কম। 

অনুদান বৃদ্ধি পেয়েছে তালেবান শাসিত আফগানিস্তানের জন্য। দেশটির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ অনুদান বৃদ্ধি পাচ্ছে। ’২৫ অর্থবছরের সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী যেখানে আফগানিস্তান ১০০ কোটি রুপি পাচ্ছিল, সেখানে  ২০২৬ নতুন অর্থবছরে তারা পাবে ১৫০ কোটি রুপি। এছাড়াও শ্রীলংকার জন্য জন্য অনুদান ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০ কোটি রুপি। সেশেলসের জন্য বরাদ্দ বেড়েছে ২৭ শতাংশ, মোট ১৯ কোটি রুপি।

ভারতের বিদেশি সহায়তা প্রাপকদের মধ্যে ভুটান সবসময়ই বরাদ্দের শীর্ষে থাকে। নতুন অর্থবছরেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। গত অর্থবছরের তুলনায় ভুটানের জন্য বরাদ্দ ১৭ শতাংশ বেড়েছে।দেশটির জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ হাজার ২৮৮ কোটি রুপি। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৬৯ কোটি রুপি অনুদান এবং ৫২০ কোটি রুপি ঋণ। 

আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য ভারত ২২৫ কোটি রুপি, ইউরেশীয় দেশগুলোর জন্য ৩৮ কোটি রুপি এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর জন্য ১২০ কোটি রুপি অনুদান বাড়িয়েছে।

যদিও বরাদ্দ কমানো হয়েছে নেপাল, মালদ্বীপ ও মরিশাসের ক্ষেত্রে। এর মধ্যে মরিশাসের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি কমেছে, প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন অর্থবছরে দেশটি পাবে ৫৫০ কোটি রুপি। মালদ্বীপও পাবে প্রায় একই পরিমাণ, তবে তাদের বরাদ্দ কমেছে ১২ শতাংশ। নেপালের জন্য বরাদ্দ চার শতাংশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৮০০ কোটি রুপি।এছাড়াও মিয়ানমার ৩০০কোটি , সেসলস ১৯কোটি,মঙ্গোলিয়া অনুদান বাবদ পাবে ২৫কোটি রুপি। 

উল্লেখযোগ্যভাবে ইরানে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন চাবাহার বন্দরের জন্য নতুন অর্থবছরে কোনো অনুদান দিচ্ছে না ভারত। এর আগে, ’২৪-২৫ অর্থবছরে চাবাহার বন্দরের জন্য ভারত ৪০০ কোটি রুপি দিয়েছিল। পাশাপাশি, ’২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আরো ৪০০ কোটি রুপি দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল। কিন্তু নতুন বাজেটে সেই বরাদ্দ পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। ইরানের কৌশলগত অবকাঠামো প্রকল্পে সহায়তা করলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা এবং ভারতের ওপর শুল্কসংক্রান্ত চাপ ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।