বিনোদন

বাবার প্রতি কেন টান অনুভব করেন না টাবু?

সন্তানের কাছে বাবা-মা মানেই অন্যরকম এক আবেগ, যা শব্দ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। অধিকাংশ সন্তানদের ক্ষেত্রে শৈশবে বাবা হয়ে উঠেন তাদের ‘নায়ক’। বিশেষ করে মেয়ে সন্তানের ক্ষেত্রে এটা বেশি দৃষ্টিগোচর হয়। এর ব্যতিক্রম উদাহরণও অজস্র। তবে বলিউডের দাপুটে অভিনেত্রী টাবুর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি একেবারে ভিন্ন। কারণ বাবার প্রতি টান অনুভব করেন না এই নায়িকা।

টাবুর বাবা-মা ১৯৭১ সালের ৪ নভেম্বর ভারতের হায়দরাবাদে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন টাবু। তার আসল নাম—তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি। তার বাবার নাম জামাল আলী হাশমি আর মায়ের নাম রিজওয়ানা। এ দম্পতির দুই কন্যা। তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি অর্থাৎ টাবুর বোনের নাম ফারাহ; সেও একজন অভিনেত্রী। টাবুর বাবা জামাল পাকিস্তানের একজন অভিনেতা ছিলেন। সত্তর দশকে বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়ান। পরবর্তীতে টাবুর মায়ের সঙ্গে বসবাসের জন্য ভারতে ফিরে যান টাবুর বাবা। টাবুর বয়স যখন তিন বছর, তখন তার বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যান। টাবুর মা রিজওয়ানা পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা।

টাবুর বেড়ে ওঠা টাবুর নানা-নানি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। নানা মোহাম্মদ আহসান ছিলেন গণিতের অধ্যাপক আর নানি ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক। তারা একটি স্কুলও পরিচালনা করতেন। মা-নানা-নানির কাছে বেড়ে উঠেছেন টাবু। 

এর আগে সিমি আগরওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শৈশব নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন টাবু। এ অভিনেত্রী বলেন, “আমার দারুণ একটি শৈশব কেটেছে। আমরা সারাজীবন হায়দরাবাদেই থেকেছি। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর আমি আমার নানা-নানির সঙ্গে থাকতাম। আমার মা একজন শিক্ষিকা ছিলেন, আর আমি আমার নানির সঙ্গেই বেশি সময় কাটিয়েছি।”  

টাবুর জীবনে তার নানির ভূমিকা অনেক। এ তথ্য উল্লেখ করে এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার নানি প্রার্থনা করতেন আর বই পড়তেন। আর আমি সেই পরিবেশেই বড় হয়েছি। আমি খুব লাজুক স্বভাবের ছিলাম, আমার নিজের জোরালো কণ্ঠ ছিল না। আসলে নায়িকা হওয়ার পর, অভিনেত্রী হওয়ার পরও আমার নিজের একটা কণ্ঠ তৈরি হতে অনেক সময় লেগেছে।” প্রার্থনা, বই ও শক্তিশালী নারীদের সান্নিধ্যে ভরা ছিল টাবুর শৈশব। টাবুর ভাষায়—“এই পরিবেশ আমাকে শান্ত ও সহজ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছে।”

তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি থেকে টাবু টাবুর আসল নাম—তাবাসসুম ফাতিমা হাশমি। ভারতীয় অভিনেতা-পরিচালক দেব আনন্দই তাকে ‘টাবু’ নামটি দেন। জন্মদিনের একটি পার্টিতে টাবুকে প্রথম দেখেন দেব আনন্দ। পরে ‘হাম নওজওয়ান’ সিনেমায় তাকে নিজের মেয়ের চরিত্রে কাস্ট করেন। এ সিনেমায় তার নাম ছিল ‘টাব্বু’। তারও আগে মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বাজার’ সিনেমায় একটি ছোট চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। তবে এই ‘টাব্বু’ থেকে ‘টাবু’ নামে পরিচিতি লাভ করেন এই অভিনেত্রী।

টাবু কেন বাবার পদবি ব্যবহার করেন না? টাবু নামে পরিচিতি পেলেও কাগজপত্রে তার নাম—তাবাসসুম ফাতিমা। তার বাবার ‘হাশমি’ পদবি ব্যবহার করতে ইচ্ছুক নন এই অভিনেত্রী। তার ভাষায়—“সত্যি আমি কখনো এই পদবি ব্যবহার করিনি। আমার কাছে বাবার পদবি ব্যবহার করা কখনো গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি। আমার নাম ছিল—তাবাসসুম ফাতিমা, ‘ফাতিমা’ ছিল আমার মাঝের নাম। স্কুলে ফাতিমাই ছিল আমার পদবি। আমি যে নামে বড় হয়েছি, সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট। আমি যাকে চিনি না, তার কাছ থেকে কিছু নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করিনি।”

বাবার প্রতি কেন টান অনুভব করেন না টাবু?  বাবার প্রতি কোনো টান অনুভব করেন না টাবু। এমনকি তাকে জানারও কোনো কৌতূহল নেই এই অভিনেত্রীর। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে টাবু বলেন, “তার (বাবা) সঙ্গে আমার কোনো স্মৃতি নেই। আমার বোন (ফারাহ) মাঝে মাঝে তার সঙ্গে দেখা করে। কিন্তু আমার কখনো দেখা করার ইচ্ছে হয়নি। আমি তাকে জানার ব্যাপারে কৌতূহলী নই। আমি যেমন আছি, যেভাবে বড় হয়েছি, তাতেই খুশি। আমার জীবন নিয়ে আমি খুব স্থির ও সন্তুষ্ট।”

টাবুর একা জীবন একা একাই ৫৪ বছর পার করে দিয়েছেন অভিনেত্রী টাবু। তার সমবয়সি সব অভিনয়শিল্পী বিয়ে করে ঘর বেঁধেছেন, সন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। তবু টাবু ব্যক্তিগত জীবনে একা। তবে রুপালি জগতে পা রেখে অনেকের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে এই অভিনেত্রীর। এ তালিকায় দক্ষিণী সিনেমার নাগার্জুনা আক্কিনেনি যেমন রয়েছেন, তেমনই রয়েছেন অজয়। তবে মুম্বাই মিররকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টাবু দাবি করেছিলেন—ব্যক্তিগত জীবনে একা থাকার কারণ অভিনেতা অজয় দেবগন।

কয়েক বছর আগে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে টাবু বলেন, “আমি আর অজয় একে-অপরকে ২৫ বছর ধরে চিনি। যখন ছোট ছিলাম, সামির (অজয়ের চাচাত ভাই) আর অজয় আমার ওপর গোয়েন্দাগিরি করত। আমার সবকিছুতে নজর রাখত। যে কারণে আমি কারো সঙ্গে প্রেম করতে পারিনি। এ জন্য ওদের অনুতপ্ত হওয়া উচিত। আর এখন আমাকে ভালো একজন পাত্র দেখে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার দায়িত্বও অজয়ের।”

টাবুর ক্যারিয়ার মাত্র ১১ বছর বয়সে ‘বাজার’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন টাবু। তিন বছরের বিরতি নিয়ে ‘হাম নওজওয়ান’ সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এরপর বিরতি নেন ৬ বছর। ১৯৯১ সালে তেলেগু ভাষার ‘কুলি নাম্বার-১’ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন টাবু। ১৯৯৪ সালে হিন্দি ভাষার ‘বিজয় পথ’ সিনেমায় অভিনয় করে নজর কাড়েন। এ সিনেমার জন্য নবাগত নায়িকা হিসেবে ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নেন। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন অজয় দেবগন। 

টাবু এখন শক্তিশালী ও সাহসী চরিত্রের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বহু ভাষার সিনেমায় অসাধারণ অভিনয় করে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। এ তালিকায় রয়েছে—‘নিন্নে পেলেডাথা’, ‘কালাপানি’, ‘ইরুভার’, ‘দ্য নেমসেক’, ‘হায়দার’, ‘মকবুল’, ‘জিত’ প্রভৃতি। দু’বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন টাবু। ১৯৯৬ সালে ‘মাচিস’ সিনেমার জন্য প্রথম, ২০০১ সালে ‘চাঁদনি বার’ সিনেমায় ‘মুমতাজ’ চরিত্রে অভিনয় করে দ্বিতীয়বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন এই অভিনেত্রী। 

*টাইমস অব ইন্ডিয়া অবলম্বনে