সারা বাংলা

একটি দল নারীদের ঘরে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “দেশের জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। তাদেরকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়।” 

৫ আগস্টের পর একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল নারীদের অবমাননা করছে এবং তাদের ঘরে আটকে রাখার ষড়যন্ত্র করছে, এ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে।”

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর উদ্যানে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।

জনসভায় তারেক রহমান বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া নারী শিক্ষার প্রসারে মাধ্যমিক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেব, যার মাধ্যমে মায়েরা প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাবেন।”

তিনি বলেন, “গার্মেন্টস শিল্পের উন্নয়ন ও দেশের অর্থনীতিতে নারীদের অবদান অনস্বীকার্য। যারা কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না।” 

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “বিএনপি উন্নয়নের রাজনীতি করে, উন্নয়নের নামে প্রতারণা করে না। সরকার গঠন করলে কৃষকের দোরগোড়ায় ন্যায্য মূল্যে সার, বীজ ও কীটনাশক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।” 

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শুরু করা খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “উলশী খালসহ সারা দেশের বন্ধ হওয়া খালগুলো খনন করে ফসলের উৎপাদন দ্বিগুণ করা হবে।”

যশোর অঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এখানকার ফুলচাষ আধুনিকায়ন করে বিদেশে ফুল রপ্তানির ব্যবস্থা করা হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া চিনিকলগুলো পুনরায় চালু করে আখচাষিদের ভাগ্য উন্নয়ন এবং চিনি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরিকল্পনা আছে বিএনপির। বেকারত্ব দূর করতে প্রতিটি এলাকায় ভোকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও আইটি পার্ক নির্মাণ করা হবে।”

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে দেশপ্রেমিক ও দেশবিরোধীদের লড়াই হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “একটি চক্র এনআইডি ও বিকাশ নম্বর নিয়ে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। ভোট গণনায় দেরি করার উছিলায় কারচুপির চেষ্টা করা হলে তা শক্ত হাতে প্রতিরোধ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই শান্তিতে বাস করবে। কারণ, রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনই আমাদের লক্ষ্য।”

বক্তব্যের শেষে তিনি ‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে উজ্জীবিত করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা মেহেদী আহমেদ রুমি, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম এবং খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।