জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “বিগত দেড় বছরে বিএনপি নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে ২০০ জনকে মেরে ফেলেছে। তারেক রহমান আপনি আপনার কর্মীদের অন্তর্কোন্দল থামান। নিজেদের কর্মীদের মারাটা থামান। দেশের সব মানুষকে নিজেদের কর্মী মনে করে খুনাখুনি যেটা চালু করেছেন, সেটা আপনাকে বন্ধ করতে হবে।”
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে পঞ্চগড় সদর উপজেলার গোয়ালঝার স্কুল মাঠে নির্বাচনি সভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী।
সারজিস আলম বলেন, “জনাব তারেক রহমান চারদিন আগে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারিকে আপনার বিএনপির সন্ত্রাসীরা দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে খুন করেছে। তারেক রহমান আপনার কাছে আমরা জানতে চাই, নির্বাচনের আগে পরে আপনি আপনার সন্ত্রাসী কর্মীদের দিয়ে আর কয়টা খুন করার প্ল্যান করে রেখেছেন?”
তিনি বলেন, “তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে আসল, এসে বলল ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। খুব খুশি হলাম, কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখলাম- বিএনপি যাদেরকে মনোনয়ন দিছে, এর মধ্যে ১৫ জন ঋণ খেলাপি। ভয়ঙ্কর কথা হল- ওই ১৫ জন মিলে ব্যাংক থেকে জনগণের ৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। আমরা তারেক রহমানের কাছে জানতে চাই, যারা এমপি হয় নাই তার ক্ষমতায় যাওয়ার আগেই যদি ৬ হাজার কোট টাকা লুটপাট করে, তাদেরকে দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর কত হাজার কোটি লুটপাট করাতে চান? এই উত্তর আমাদেরকে দেওয়া লাগবে। এটা নতুন বাংলাদেশ, কাউকে প্রশ্নের বাইরে রাখা হবে না। কাউকে নতুন করে স্বৈরাচার হতে দেওয়া হবে না।”
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক বলেন, “৫ আগস্টের পর আমরা প্রত্যেকেই আমাদের সনাতন ভাই-বোনদের বাড়ি, মন্দির পাহাড়া দিয়েছি। অথচ, একটা রাজনৈতিক দলের কিছু নেতাকর্মী প্রতীমা বিসর্জনের পুকুর দখল করেছে, মন্দিরে খাস জমি দখল করেছে, ঘর-বাড়িতে আগুন দিয়েছে। সনাতনী ভাই-বোনেরা দেড় বছরের চিত্র কয়েকদিনের মিষ্টি কথায় দয়া করে ভুলবেন না। দেড় বছরের চিত্র মনে করুন- কারা আপনাদের হুমকি দিয়েছে, কারা ভয় দেখিয়েছে, কারা জুলুম করেছে, কারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। তারা এক মাসের জন্য ভালো থাকার চেষ্টা করছে।”
জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জুলফিকার রহমানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া, পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইকবাল হোসাইন, জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম, জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মীর মোর্শেদ তুহিন।