যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আসা পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করবে। খবর বিবিসির।
স্থানীয় সময় রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ভারত তাদের বাণিজ্য বাধাগুলো শূন্যে নামিয়ে আনবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। এর ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে দিল্লির ওপর যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করা হবে।
ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে প্রায় দুই দশকের আলোচনার পর একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণার এক সপ্তাহের মধ্যেই এই নতুন ঘোষণাটি এলো।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘এক্স’ পোস্টে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই চুক্তিতে পৌঁছাতে পেরে তিনি ‘খুবই আনন্দিত’।
ট্রাম্প নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন, মোদির সঙ্গে রবিবার সকালে ফোনে কথা বলার সময় বাণিজ্য এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “তিনি (মোদি) রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য ভেনেজুয়েলা থেকে অনেক বেশি তেল কিনতে রাজি হয়েছেন।”
ট্রাম্প আরো যোগ করেন, মোদির অনুরোধে তিনি অবিলম্বে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন যার ফলে শুল্ক কমানো হবে এবং ভারতের শুল্ক ও নন-ট্যারিফ বাধাগুলো শূন্যে নামিয়ে আনা হবে। এছাড়া মোদি প্রযুক্তি, কৃষি এবং কয়লাসহ ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক চাপে ছিল। ভারতের ওপর চাপানো এটি ছিল এশিয়ার কোনো দেশের ওপর আরোপিত সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্ক। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ ছিল রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আরোপিত জরিমানা।
হোয়াইট হাউজের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, চুক্তির অংশ হিসেবে রাশিয়ার তেল-সংক্রান্ত শুল্ক বাতিল করা হবে এবং অন্যান্য শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হবে।
মোদি এক্সে লিখেছেন, “ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে এই চমৎকার ঘোষণার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যখন বিশ্বের দুটি বৃহৎ অর্থনীতি এবং বৃহত্তম গণতন্ত্র একসাথে কাজ করে, তখন তা আমাদের জনগণের উপকার করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিশাল সুযোগ তৈরি করে।”
এর আগে ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছিল। এর ফলে দিল্লি অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব খুঁজছিল। গত সপ্তাহে ভারত ও ইইউ একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করেছে, যা ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউ-এর রপ্তানি দ্বিগুণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।