রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে নগর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও নির্বাচনি আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। জানুয়ারির ২২ তারিখ থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে, ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। কৃষকের উঠান, গ্রামীণ হাট-বাজার, শহরের মোড়, অলিগলি ও চায়ের দোকান—সবখানেই এখন নির্বাচনের উত্তাপ।
মাঠে একাধিক দলের প্রার্থী থাকলেও প্রচারে এগিয়ে রয়েছে বিএনপি, জামায়াতের প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা। নির্বাচনি প্রচারণায় কাগুজে পোস্টার বা প্লাস্টিকের ব্যানার দেখা যায়নি তবে সাদা কাপড়ে কালো অক্ষরে লেখা কাপড়ের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো এলাকা। এ ছাড়া মাইকে গানে গানে ভোট চাওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও। গাছে ফেস্টুন লাগানো কিংবা সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর মতো অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতের বেশ কয়েকজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে। আদালতে তলবও করা হয়েছে তাদের। তবুও গাছে ফেস্টুন লাগানো কিংবা সরকারি স্থাপনা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোর মতো অভিযোগ থামছে না।
ভোটের মাঠে প্রার্থীদের মুখে মুখে এখন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। নির্বাচিত হলে কী করবেন, কী করবেন না—এ নিয়ে ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থানের আশ্বাস।
ছয় আসনে ৩০ প্রার্থী রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ২৬ জন দলীয় ও চার জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের সংখ্যা ও ভোটার পরিস্থিতি নিম্নরূপ—
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) এই আসনে চার জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির শরীফ উদ্দিন, জামায়াতের অধ্যাপক মজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. শাহজাহান এবং এবি পার্টির আবদুর রহমান। মোট ভোটার ৪লাখ ৬৮ হাজার ৩৫৯ জন, এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩৪ হাজার ০৭৯, নারী ২লাখ ৩৪ হাজার ২৭৭ জন এবং হিজড়া ৩ জন।
রাজশাহী-২ (সদর) ছয় জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ পাঁচ দলীয় ও এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন এবং নারী ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন এবং হিজড়া ৮ জন।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) এই আসনে পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার ৪,২৩,১৯৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৬ জন, নারী ২ লাখ ১২ হাজার ৩০৭ জন এবং হিজড়া ৬ জন।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) চার জন প্রার্থী লড়ছেন এই আসনে। মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৩৫ জন, নারী ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৬ জন এবং হিজড়া ৪ জন।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) এই আসনে সাত জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির পাশাপাশি তিন জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন, পুরুষ ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৬৮ জন এবং নারী ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ জন এবং হিজড়া ৫ জন।
রাজশাহী-৬ (চারঘাট-বাঘা) চার জন প্রার্থী লড়ছেন এই আসনে। মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৮ হাজার ০১৮ জন, নারী ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৩ জন এবং হিজড়া ২ জন।
তানোর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের ভোটাররা জানান, বিএনপি ও জামায়াত—দুই প্রার্থীই শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তবে যিনি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বাস্তব আশা দিতে পারবেন, শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই ভোট দেবেন তারা।
গোদাগাড়ীর ভোটার ও শিক্ষক মশিউর রহমান বলেন, “এবার আমাদের এলাকায় ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কে জিতবে বলা কঠিন।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “বিএনপির শক্ত রাজনৈতিক ভিত্তির কারণে অন্য দল এখানে সুবিধা পাবে না। মনোনয়ন নিয়ে কিছু অসন্তোষ থাকলেও এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ।”
অন্যদিকে মহানগর জামায়াতের জেনারেল সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, “বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আমাদের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। ভোটাররাও বিষয়টি লক্ষ্য করছেন।”