ক্যাম্পাস

চাকরির মেয়াদ বাড়ানোয় চাটমোহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা

চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় মেয়াদ বাড়ানোর প্রতিবাদে পাবনার চাটমোহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়েছেন সংক্ষুব্ধ শিক্ষকরা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চাটমোহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজুর কক্ষে তালা ঝোলানো হয়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল চেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর আবেদন জমা দেন শিক্ষকরা।

তবে অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজু দাবি করেন, তার চাকরির মেয়াদ আইনানুগভাবেই বাড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান।

ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, চলমান সংকটে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে। দ্রুত সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত চাটমোহর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজুর চাকরির মেয়াদ গত বছরের ৩১ জানুয়ারি শেষ হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি এডহক কমিটির সদস্যদের কাছে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এডহক কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে তিন মাসের জন্য পুনরায় অধ্যক্ষ পদে বহাল রাখে।

মঙ্গলবার মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত একটি চিঠি সাংবাদিকদের হাতে আসে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কলেজ পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আগামী ৩০ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসের জন্য অধ্যক্ষের মেয়াদ বাড়িয়ে নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ করে বিষয়টি অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজু শিক্ষক ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই গোপনে মেয়াদ বৃদ্ধির উদ্যোগ নেন। অধিকাংশ শিক্ষক তাকে আর অধ্যক্ষ হিসেবে চান না। তারা সিনিয়র কোনো শিক্ষকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবি জানান। এ ঘটনার জেরে মঙ্গলবার ২৮ জন শিক্ষক একযোগে অধ্যক্ষের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।

শিক্ষকরা আরো অভিযোগ করেন, বর্তমানে ১৫ থেকে ১৭ জন শিক্ষক অধ্যক্ষ হওয়ার যোগ্য থাকা সত্ত্বেও শরীফ মাহমুদ সরকার সনজু অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে পদ আঁকড়ে থাকার চেষ্টা করছেন। তারা প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেন। এতে কলেজের শিক্ষার মান, চলমান নির্বাচনী পরীক্ষা ও প্রথম সাময়িক পরীক্ষা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এ বিষয়ে মেয়াদ শেষ হওয়া এডহক কমিটির সদস্য ডা. আব্দুল মজিদ বলেন, “আমরা ছয় মাস মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিলাম। পরে জানতে পারি, অধ্যক্ষের পদ তিন মাসের জন্য বর্ধিত করা হয়েছে।”

অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সরকার সনজু বলেন, “আমার অধ্যক্ষ পদের মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হয়েছে। অনেকেই বিষয়টি না বুঝে অভিযোগ করছেন। শিক্ষকরা আমার কক্ষে তালা দিয়েছে। এ ব্যাপারে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানান, অধ্যক্ষের ৯০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একটি চিঠি তিনি পেয়েছেন।