কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মোড়াগাছা গ্রামের মেয়ে প্রেমা খাতুন। মো. হাসিবুল ইসলামের কন্যা প্রেমা মোড়াগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি এবং খোকসা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হোন। মেধার জোরে তিনি একে একে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যাপীঠগুলোতে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু এই আনন্দের খবর বিষাদে রূপ নেয় পরিবারের চরম আর্থিক অনটনে। স্বপ্নের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও অনিশ্চয়তায় থমকে গিয়েছিল তার উচ্চশিক্ষার পথ।
গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। সেই পোস্টে প্রেমা খাতুনের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া অনিশ্চয়তার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। পোস্টটি খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমাদুল হাসানের নজরে আসলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইউএনও মাহমাদুল হাসান গরিব মেধাবী শিক্ষার্থী প্রেমা খাতুন ও তার পিতার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার একটি চেক তুলে দেন। এর ফলে প্রেমার উচ্চশিক্ষার পথে আর কোনো বাধা থাকবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শিক্ষার্থী প্রেমা খাতুন বলেন, আর্থিক অনটনের কারণে যদি উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যায়, সেই চিন্তায় ভালো ফলাফল করে আমি হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। ইউএনও স্যার আমার ভর্তির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। স্যার যদি সময়মতো আমার পাশে না দাঁড়াতো তাহলে হয়তো আমি অন্ধকারে হারিয়ে যেতাম। স্যারের মতো মানুষ এ সমাজে আরো প্রয়োজন।
প্রেমা খাতুনের বাবা মো. হাসিবুল ইসলাম বলেন, আমিসহ পরিবার ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও স্যারের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতা ও পাশে থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
খোকসা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমাদুল হাসান বলেন, সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নতুন করে বেঁচে উঠলো। প্রেমা খাতুনের জন্য শুভ কামনা রইলো, উজ্জ্বল ও সফল ভবিষ্যতের জন্য যখন যা প্রয়োজন তা জানালে সহযোগিতা করা হবে।