“দেশের জনগণের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকারের বিরুদ্ধে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে”, মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ষড়যন্ত্রকারীদের ‘গুপ্ত’ সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই গুপ্তচক্র সময় ও সুযোগ বুঝে বার বার রূপ পরিবর্তন করে। জনগণের শক্তির ওপর তাদের কোনো আস্থা নেই।
তিনি বলেন, “জনগণ দেখেছে এই গুপ্ত দলের প্রধান দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনদের নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর ও নোংরা মন্তব্য করেছেন। ১৯৭১ সালেও তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে লক্ষ লক্ষ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। যারা দেশের নারীদের ন্যূনতম সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না।“
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ (ডিগ্রি শাখা) মাঠে আয়োজিত বিএনপির বিভাগীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মুদাররিস আলী ঈসার সভাপতিত্বে বিশাল এই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্যে প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, “তাদের একজন নেতা বলেছেন ১২ তারিখ পর্যন্ত তারা জনগণের পা ধরে থাকবে, আর ১৩ তারিখের পর জনগণ নাকি তাদের পা ধরবে। এ বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, তারা জনগণকে কতটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। তারা কখনোই জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী নয়।”
ফরিদপুরবাসীর উদ্দেশে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “ইনশাল্লাহ বিএনপি আগামীতে সরকার গঠন করলে ফরিদপুরকে সিটি কর্পোরেশন এবং বিভাগ করার যে গণদাবি রয়েছে, জনগণের স্বার্থে তা পূরণ করা হবে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট, করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।”
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের বাইরে ছিলাম। শুনেছিলাম দেশে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু এখন প্রার্থীদের মুখে শুধু সমস্যার কথাই শুনছি। বাস্তবে উন্নয়ন হয়নি, বরং মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আগামী ১২ তারিখ ধানের শীষে ভোট দিয়ে উদ্ধার করা সেই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ তাদের প্রকৃত অধিকার ফিরে পাবে।”
দেশ গঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে নতুন করে দেশ গড়ার। খাল-নদী খনন করতে হবে, নতুন স্কুল-কলেজ ও মিল-কারখানা গড়ে তুলতে হবে। কৃষকদের সুবিধার জন্য হিমাগার নির্মাণ করতে হবে। এমন বহু কাজ এখনো বাকি রয়েছে, যা বিএনপি বাস্তবায়ন করবে।”
তারেক রহমান দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন এবং ২টা ৫৫ মিনিটে জনসভার মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ২৩ মিনিটে তিনি তার ২৪ মিনিটের বক্তব্য শুরু করেন। বক্তব্য শেষে বিকেল ৪টায় তিনি হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ফরিদপুর ত্যাগ করেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুর ও আশপাশের জেলা থেকে আগত হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ জনসমুদ্রে পরিণত হয়।