‘গসিপ’ শব্দটি শুনলেই আমাদের মনে সাধারণত নেতিবাচক ধারণা আসে। সহজেই বোঝা যায়, অকারণে অন্যের সমালোচনা, পরনিন্দা-পরচর্চা— করাই হলো গসিপ।কিন্তু আপনি কি জানেন, অল্প-স্বল্প গসিপ আসলে সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে পারে?
গবেষণা বলছে, অল্পসল্প গসিপ যুগলের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়ায়, বিশ্বাস গড়ে তোলে এবং সম্পর্কের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের করা একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে দম্পতি নিয়মিত গসিপ করেন, তাদের সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি সুখী ও স্থিতিশীল।
এই গবেষণায় অংশ নেন ৭৬টি যুগল। দেখা যায়, তারা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৮ মিনিট সময় ব্যয় করেন গসিপে। এর মধ্যে প্রায় ২৯ মিনিট তারা একসঙ্গে তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে আলোচনা করেন। এই ছোট ছোট কথাবার্তাই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
গসিপ আসলে কী? গসিপ মানেই যে কারও খারাপ দিক নিয়ে কথা বলা—তা কিন্তু নয়। গবেষকদের মতে, গসিপ হলো এমন কাউকে নিয়ে আলোচনা করা, যিনি সেই মুহূর্তে উপস্থিত নেই। এই আলোচনা হতে পারে—ইতিবাচক, নিরপেক্ষ কিংবা সমালোচনামূলক। এই সব ধরনের কথোপকথনই গসিপের আওতায় পড়ে।
কীভাবে গসিপ সম্পর্ককে আরও মজবুত করে যখন দুইজন মানুষ একসঙ্গে বন্ধু, পরিচিত বা সহকর্মীদের নিয়ে কথা বলেন—কে কী বলল, কী করল, কোন পরিস্থিতিতে কী ঘটল—তখন তাদের মধ্যে একটি অদৃশ্য সংযোগ তৈরি হয়। মনে হয়, “আমরা একই দলে’’।এতে করে— পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ে, একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয় এবং সম্পর্কের মধ্যে স্বচ্ছতা আসে।
গসিপ করার সময় একজন আরেকজনের সঙ্হে অনুভূতি, মতামত ও ভাবনা ভাগ করে নেন। এতে তৈরি হয় ইমোশনাল সেফটি। ফলে একজন আরেকজনের কাছে নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে পারে। এতে বিশ্বাস বাড়ে, মানসিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। তবে মনে রাখবেন, সব গসিপই ভালো নয়।