সারা বাংলা

‘গুমের বাংলাদেশে ফিরতে না চাইলে ১১ দলীয় জোটে শামিল হতে হবে’

গুম, খুন ও সন্ত্রাসের বাংলাদেশে আর ফিরে যেতে না চাইলে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) নেত্রকোণা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের দুর্গাপুর সুসং ডিগ্রি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, ‘‘আপনারা জানেন শরিফ ওসমান হাদীকে কে হত্যা করেছে? তার নাম ফয়সাল করিম। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। পরে একজন আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনে বের হন। আমি তার নাম বলব না। কিন্তু বাংলার মানুষ আজ জানতে চায়—ফয়সাল করিমদের মতো খুনিরা কাদের বদান্যতায় কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের সোনার সন্তানদের হত্যা করে বাংলাদেশকে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে।’’

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন, ‘‘আপনারা কি আবার সেই খুন আর গুমের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান? সেই হত্যাকাণ্ড আর সন্ত্রাসের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান? রেমিটেন্স যোদ্ধারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে যে সম্পদ অর্জন করেন, ক্ষমতায় গিয়ে একটি মহল তা লুটপাট করে লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে বেগম পাড়ায় পাঠাবে—এটা কি আপনারা চান?’’

‘‘যদি না চান, তাহলে একটাই পথ—১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যজোটের পক্ষে দাঁড়ানো। আজকের বাংলাদেশে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, সেই গণজোয়ারের সঙ্গে শামিল হতে হবে।’’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, ‘‘ইংরেজ ব্রিটিশ বেনিয়া, কলকাতার দাদাবাবু আর পশ্চিম পাকিস্তানের খান-পাঠান—এরা সবাই শাসনের নামে বাংলার মানুষকে শোষণ করেছে। আমাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। দীর্ঘ সংগ্রাম আর মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর লাল-সবুজের পতাকা উড়েছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পর মানুষের বুকভরা স্বপ্ন ছিল—এবার আমাদের স্বজাতি ভাইয়েরা শাসন করবে, আমরা আর বঞ্চিত হবো না। কিন্তু ৫৪ বছরে বাংলার মানুষ কী পেয়েছে? শুধু শাসকের পরিবর্তন। সাধারণ মানুষের জীবনে কোনো পরিবর্তন আসেনি।’’

মামুনুল হক বলেন, ‘‘৫৪ বছরের যে রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার কাঁধে দুটি ভূত চেপে বসেছে। একটির নাম সন্ত্রাস ও গুণ্ডামিতন্ত্র, আরেকটির নাম লুটপাট ও দুর্নীতিতন্ত্র।’’

জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নেত্রকোণা-১ আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী। তিনি রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমাদ হারিছ। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নেত্রকোণা শাখার সভাপতি আল্লামা জিয়া উদ্দিন।