সারা বাংলা

সংখ্যালঘুদের ভোটে নির্বাচনে জিততে আত্মবিশ্বাসী গোবিন্দ প্রামাণিক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। এ আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটার বেশি থাকায় জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

ভোটারদের কাছে টানতে দিন-রাত বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। বিভিন্ন স্থানে সভা, সমাবেশ, উঠোন বৈঠক করেছেন তিনি। 

তার প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত গোপালগঞ্জ-৩ আসন। এ আসনে আছে ২টি পৌরসভা ও ১৬টি ইউনিয়ন। মোট ভোটর ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৮৪ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০৩ জন ও নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৮০ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার মাত্র একজন। ভোটকেন্দ্র আছে ১০৮টি।

মনোনয়নপত্র দাখিল ও ঘোড়া প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচনি এলাকার আনাচে-কানাচে প্রচার চালাচ্ছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তিনি নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে হাজির হচ্ছেন।

গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোট এখন জয়-পরাজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে না থাকায় তিনি ওই দলের সমর্থকদের নিজের পক্ষে টানতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, “গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সাধারণ মানুষ যে ভোটার, তা উপলব্ধি করতে পারেনি আগে কখনো। আমরা মানুষের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি, মানুষ আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে এবং তাদের ভোটের যে মূল্য আছে, সেটি তারা এখন বুঝতে পারছে।”

এই প্রার্থী আরো বলেন, “আমার সম্প্রদায় ছাড়াও সব সম্প্রদায়ের মানুষ আমাকে অত্যন্ত ভালোবাসে। আমি সব সময় নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখি। অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেও চরম ভীতি রয়েছে। তারাও আমাকে অনুরোধ করেছে নির্বাচনে আসার জন্য আর সেই ভীতি কাটানোর জন্যই আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।”

ভোটারদের কেন্দ্রে নেওয়ার জন্যই প্রার্থী হয়েছেন, দাবি করে গোবিন্দ প্রামাণিক বলেন, “আমি নির্বাচনে না আসলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেত না। যাতে সবাই ভোট কেন্দ্রে যায় এবং সবাইকে ভোটের উৎসবে শামিল করার জন্য মূলত আমার নির্বাচনে আসা।"

দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে কাজ করছেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। তার দাবি, জাতীয় সংসদে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে সরাসরি ও জোরালোভাবে কথা বলার মতো কণ্ঠ খুবই সীমিত। সে কারণেই তিনি এবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।”

তিনি জানান, তার বাড়ি রাজবাড়ি জেলায় হলেও গোপালগঞ্জ-৩ আসন হিন্দুঅধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় এখানকার মানুষের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও সম্পর্ক রয়েছে। এই এলাকার সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে তিনি সংসদে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলতে চান। জনগণের সমর্থন পেলে তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।