জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঝালকাঠির নির্বাচনি জনসভার মঞ্চে এক ব্যক্তিক্রমী ঘটনার জন্ম দিলেন। একটি শীলত পাটি উপহার দেওয়া হয় তাকে। সেই পাটি মঞ্চে পেতে তাতে শুয়ে পড়েন তিনি। তখন সমাগত জনতা ‘আল্লাহু আকবর’ স্লোগান দিতে থাকেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার পর ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। সেই মঞ্চে উপহার পেয়ে শীতল পাটি পেতে শুয়ে পড়েন তিনি। কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনা উপস্থিত নেতাকর্মীসহ জনসাধারণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি করে।
জনসভায় বক্তব্য শেষ হলে মঞ্চে এসে জামায়াতের আমিরকে এই শীতল পাটি উপহার দেন নলছিটি উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন পাটিকর। একজন হিন্দুর এই উপহারে শুয়ে ‘সবার জন্য জামায়াত’- এই বার্তা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান।
ঝালকাঠির শীতল পাটি বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও সুপরিচিত কারুশিল্প, যা মূলত বেতের চিকন ছাল দিয়ে তৈরি অত্যন্ত মসৃণ ও আরামদায়ক বিছানা বা মাদুর। এই জেলার বিশেষ করে রাজাপুর এলাকার শীতল পাটি এর সুনিপুণ বুনন এবং নান্দনিক নকশার জন্য সৌখিন মানুষের কাছে সমাদৃত। তবে বর্তমানে শীতল পাটি বুননশিল্পীরা নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।
ঝালকাঠি জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে মঞ্চে তখন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঝালকাঠি-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি-২ আসনের শেখ নেয়ামুল করিম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর নির্বাচনি জনসভায় ১১ দলীয় জোটের ইশতেহারের আলোকে দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আল্লাহর বিধান অনুযায়ী দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে সবার জন্য সমান বিচার থাকবে এবং কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা হবে না।”
জামায়াতের আমির অভিযোগ করেন, “স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে দেশে বিচারহীনতা ও বৈষম্য বেড়েছে। বর্তমানে বিচার ব্যবস্থায় টাকার প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট বেশি কাজ করছে। আমরা এমন বিচার ব্যবস্থা চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের মতো ক্ষমতাবানদেরও একই আইনের আওতায় আনা হবে। অপরাধ করলে প্রধানমন্ত্রীও ছাড় পাবেন না।”
দুর্নীতি ও অর্থপাচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের সম্পদ। তা ফিরিয়ে আনতে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে “
একই সঙ্গে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কড়া বার্তা দেন জামায়াত আমির।
উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, অতীতে বঞ্চিত অঞ্চলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন করা হবে এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা হবে।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বেকার ভাতা নয়, তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।”
তিনি তরুণদের ভোটাধিকার রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানান।