ঢাকা-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটপ্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ৮ দফা নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় তিনি ইশতেহার ঘোষণা করেন।
ইশতেহারের প্রথমেই নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী শহিদ শরীফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার চেয়েছেন। এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এটিই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেছেন।
চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ ঢাকা গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইশতেহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, নাগরিকরা chandabaaj.com-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ গোপনীয়তা বজায় রেখে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং প্রতিটি অভিযোগ দ্রুততার সাথে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদক ব্যবসায়ীচক্রকে কঠোরভাবে দমনের পাশাপাশি অপরাধপ্রবণ এলাকা ও জনসমাগমস্থলে সিসিটিভি নজরদারি জোরদারের কথা বলেছেন।
ঢাকা-৮ এলাকায় অবৈধ দখলদারিত্ব নির্মূল করাসহ মানুষ ও সকল প্রাণীর জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক ঢাকা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। এ ছাড়াও সকল সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে সিন্ডিকেট ও দালালমুক্ত করে স্বাস্থ্যসেবাকে ব্যবসা নয়, নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
নির্বাচনি এলাকায় বৈষম্যহীন, মানসম্মত ও নিরাপদ শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার পাশাপাশি তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে র্যাগিং, গেস্টরুম সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক সহিংসতা বিলোপের কথা বলেছেন।
নির্বাচনি ইশতেহারে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজ আসনে জনগণের বেকারত্ব দূরীকরণে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার প্রসার ও উদ্যোক্তাদের সাফল্য নিশ্চিতকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের উল্লেখ করেছেন। এ জন্য তিনি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তাদের জন্য স্টার্টআপ ফান্ড গঠনের কথা বলেছেন।
নাগরিকবান্ধব ও জনদুর্ভোগমুক্ত ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ের ইশতেহারে রয়েছে একাধিক পরিকল্পনা। এগুলোর মধ্যে আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ, নিজ আসনে যানজট নিরসনে স্কুল এবং সরকারি অফিসের পৃথক সময়সূচি নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় গণসচেতনতা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়া এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ ও পুনর্বাসন সম্পন্ন করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি নাগরিক সেবা সহজ ও দ্রুত করতে জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, এনআইডি, ট্রেড লাইসেন্সসহ সকল গুরুত্বপূর্ণ সেবা আসনভিত্তিকভাবে কোন প্রকারের হয়রানি ছাড়া প্রদানের পদক্ষেপ, শ্রমজীবী হকারদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় এনে পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
আগামী প্রজন্মের জন্য ঢাকা-৮ আসনকে গড়ে তুলতে এবং ‘জনতার এমপি জনতার সেবক’ এই পরিচয় ধারণ করে ক্ষমতাকে এলিট-জমিদার গোষ্ঠীর জিম্মা থেকে সাধারণ মানুষের কাতারে নিয়ে আসার প্রতিশ্রুতি রয়েছে তার নির্বাচনি ইশতেহারে।