রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট ৬ দফা দাবি জানিয়েছে। নির্বাচন এলেই দলগুলো গণতন্ত্রের বুলি আউড়ায় অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃঙ্খলার প্রশ্নে তারা নীরব থাকে উল্লেখ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাতিলেরও দাবি জানায় তারা। সংগঠনটি রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহারে শান্তিচুক্তি বাতিলের লিখিত পরিকল্পনা ঘোষণা করারও আহ্বান জানায়।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মুহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের আহ্বায়ক থোয়াই চিং মং চাক বলেন, ‘‘স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী সময় পেরিয়ে গেলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলো আজও রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, রাজনৈতিক উপেক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার বোঝা বইছে।’’
‘‘নির্বাচনের সময় এলেই জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলো উন্নয়ন, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের বুলি আউড়ায় অথচ পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিশৃঙ্খলার প্রশ্ন এলেই দলগুলো নীরব থাকে বা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যায়,’’ বলেন তিনি।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ পর্যন্ত কোনো দল স্পষ্ট, সময়নির্ধারিত ও জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা জাতির সামনে হাজির করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন থোয়াই চিং মং চাক।
সংবাদ সম্মেলনে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরে।
দাবিগুলো হলো: পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জাতিগোষ্ঠীগুলোকে লিখিত, প্রকাশ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘোষণা। ভূমি, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক অবস্থান নেওয়া। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জাতির সামনে উপস্থাপন করা। নির্বাচনি ইশতেহারে পার্বত্য চট্টগ্রামকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে স্থান দেওয়া। পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে পরিষ্কার ও লিখিত রাজনৈতিক অবস্থান ঘোষণা করা। এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সকল বিচ্ছিন্নতাবাদী অবৈধ অস্ত্রধারী সংগঠনের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান।