ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তা, অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এই তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে তাদের মিশন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেট প্রেস ক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস এসব কথা বলেন।
ইভারস আইজাবস বলেন, নাগরিকরা কতটা নির্ভয়ে ও নিরাপদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন, নারী ও সংখ্যালঘু গোষ্ঠীসহ সব নাগরিকের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হচ্ছে কি না এই বিষয়গুলো ইইউর পর্যবেক্ষণের মূল ভিত্তি।
তার ভাষায়, একটি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ইইউ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সব দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
ইভারস আইজাবস বলেন, ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে কাজ করে। এই মিশনের ভূমিকা কেবল পর্যবেক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া বা হস্তক্ষেপ করা নয়।
তিনি জানান, নির্বাচনের পরপরই ১৪ ফেব্রুয়ারি ইইউ তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বিবৃতি প্রকাশ করবে। পরে কয়েক মাসের মধ্যে একটি বিস্তারিত চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। ইইউর এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এক মাস আগে শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক দল ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নির্বাচন প্রস্তুতির সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ইভারস আইজাবস বলেন, ইইউ পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্তৃপক্ষ, প্রার্থী, দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং বিভিন্ন এনজিওসহ স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তবে তারা কাউকে কোনো ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে না বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলছে না।
তিনি বলেন, ইউরোপ থেকে আরো ১৯ জন স্বল্পমেয়াদী পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসবেন। তারা নির্বাচনের শেষ সময়ের প্রচার পর্ব ও ভোট গণনা পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া এই মিশনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে ও কানাডার পর্যবেক্ষকরাও অংশ নিচ্ছেন। পর্যবেক্ষকেরা দেশের বিভিন্ন নির্বাচনি এলাকা, শহর ও গ্রামে অবস্থান করবেন।
ইইউ পার্লামেন্টের এই সদস্য বলেন, নির্বাচন আয়োজন বাংলাদেশের নাগরিকদের নিজস্ব বিষয় এবং এখানে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই। তবে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আরো গভীর হবে।
তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক সম্প্রসারণ, সবুজ জ্বালানি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিনিয়োগে আগ্রহী। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে গণতান্ত্রিক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইইউ।