ভ্রমণ

অ্যান্টার্কটিকা অভিযানে জনপ্রিয় ইউটিউবার সালাহউদ্দিন সুমন ও নিলয় 

বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালাউদ্দিন সুমন পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল ও দুর্গম  মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকায় এক ঐতিহাসিক অভিযানে অংশ নিয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন সহযাত্রী নিলয় কুমার বিশ্বাস। অভিযানের সূচনা হয়েছে আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়া শহর থেকে, যা বিশ্বের দক্ষিণতম শহর হিসেবে পরিচিত।

এই অভিযানে তারা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং সাউথ জর্জিয়া দ্বীপও পরিদর্শন করবেন। সাউথ জর্জিয়া একটি দুর্গম ব্রিটিশ ওভারসিজ দ্বীপ , যা ব্রিটেন থেকে বহু দূরে এবং আর্জেন্টিনার নিকটবর্তী। এই যাত্রায় তারা বিশাল পেঙ্গুইন কলোনি, সিল, নানা প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি এবং বিরল উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত দেখবেন।

সুমন ও নিলয় এই অভিযানে যুক্ত হয়েছেন নেদারল্যান্ডসভিত্তিক খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ওশানওয়াইড এক্সপিডিশনের সঙ্গে, যারা মেরু অঞ্চলের অভিযান পরিচালনায় বিশেষভাবে পরিচিত। এই অভিযানে বিশ্বের ২১টি দেশের অংশগ্রহণকারীরা একত্রিত হয়েছেন, যা একে সত্যিকারের বৈশ্বিক অভিযানে পরিণত করেছে। 

এ অভিযানকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং অভিযানের অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই অভিযানের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে তার্কিশ এয়ারলাইনস, যার ব্র্যান্ড প্রোমোটর হিসেবে সালাউদ্দিন সুমনের সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডট ইন্টারনেট এই অভিযানের লিডিং স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করছে।

অভিযান চলাকালীন সালাউদ্দিন সুমন দক্ষিণ গোলার্ধজুড়ে তার অভিজ্ঞতা ধারণ ও ডকুমেন্ট করবেন এবং ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কনটেন্ট শেয়ার করবেন। তার লক্ষ্য হলো বাংলা ভাষায় অ্যান্টার্কটিকাকে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছে তুলে ধরা, যা আগে কোনো বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর করেননি।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সালাউদ্দিন সুমন বলেছেন, “অ্যান্টার্কটিকা ঘুরে দেখার স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। নিজের ভাষায় এ অবিশ্বাস্য মহাদেশকে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে পারছি, এতে আমি ভীষণ আনন্দিত। বাংলাদেশ থেকে এর আগে কেউ এমনটা করেনি।”

নিলয় কুমার বিশ্বাস উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “এই অভিযানের অংশ হতে পেরে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত। যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীর জন্য অ্যান্টার্কটিকা হলো চূড়ান্ত গন্তব্য। ২৭ বছর বয়সে সেখানে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ মুহূর্ত।”

এই অভিযান শুধু অভিযাত্রীদের জন্যই নয়, বরং বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।