সারা বাংলা

ভোট কেন্দ্র দখলের চেষ্টা প্রতিহত করা হবে: শিবির সভাপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র দখলের যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। 

নূরুল ইসলাম সাদ্দাম অপচেষ্টাকারীদের হুঁশিয়ারি করে বলেন, ‘‘ভোট কেন্দ্রে অনৈতিক উদ্দেশ্যে যারা আসতে চায়, তাদের বলছি; আসার আগে বাবা-মা ও সন্তানদের কাছে ক্ষমা চেয়ে আসুন। সময় কিন্তু পাবেন না।’’

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার কাহালু উপজেলার বটতলা এলাকায় আয়োজিত ‘মার্চ ফর দাঁড়িপাল্লা’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

গত ১৭ বছর ধরে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের মাধ্যমে জনগণের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। জনগণ আর কোনো ফ্যাসিবাদী কাঠামো দেখতে চাই না বলে মন্তব্য করেন শিবির সভাপতি। তিনি বলেন, ‘‘যারা বাংলাদেশকে অনিরাপদ করতে চায়, তাদের আমরা লাল কার্ড দেখিয়ে রুখে দেব। নিরাপদ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয় অর্জন করব ইনশাল্লাহ।’’  

গণভোট প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ‘‘হ্যাঁ এর পক্ষে রায় মানে জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা। সংবিধান কেউ নিজের ইচ্ছামতো সংশোধন করতে পারবে না। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী আসামিদের রাষ্ট্রপতি খেয়ালখুশিমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোট বাধ্যতামূলক হবে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।’’ 

হ্যাঁ এর পক্ষে রায় মানে স্বাধীনতার পক্ষে রায় এবং আধিপত্যবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করার পক্ষে রায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি সবাইকে হ্যাঁ এর পক্ষে ভোট দিতে ও আশপাশের মানুষদের উৎসাহিত করতে আহ্বান জানান। 

বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শিবির সভাপতি বলেন, ‘‘একটি দল প্রকাশ্যে এক কথা বলে, ভেতরে আরেক কথা বলে; এটি স্পষ্ট মুনাফেকি। তারা অতীতেও কৃষক ঋণ মওকুফ, স্বাস্থ্যবীমা ও বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বাস্তবায়ন করেনি। তাদের শাসনামলে দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।’’ 

বিএনপির সরকারের জামায়াতে ইসলামীর দুইজন নেতা দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ‘‘জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রণালয়গুলো সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্তভাবে পরিচালিত হয়েছিল। অন্যান্য মন্ত্রণালয় লুটপাট করে দেশকে বারবার দুর্নীতির শীর্ষে নিয়ে গেছে।’’ 

সমাবেশের শেষ বক্তব্যে তিনি বলেন, নৌকা, ধানের শীষ ও লাঙ্গল সবই জনগণ দেখে ফেলেছে। এবার ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করবে জনগণ। দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে দখলদার ও জুলুমকারীরা এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবে। তিনি নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান। পরে দোয়া ও সালামের মাধ্যমে সমাবেশের কার্যক্রম শেষ হয়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কাহালু উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত সভায় বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোট মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা।