সারা বাংলা

কুষ্টিয়ায় নির্বাচনি মাঠে প্রতিশ্রুতির বন্যা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই। মাঠে-ময়দান ভাসছে প্রতিশ্রুতির বন্যায়। বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা একের পর এক উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা বলছেন। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব তা নিয়ে সংশয়ে সাধারণ ভোটার ও সচেতন মহল।

কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার নির্বাচিত হলে পদ্মা নদীতে সেতু নির্মাণ করে কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলাকে একত্রে যুক্ত করে একটি আধুনিক ‘রয়েল সিটি’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “কুষ্টিয়ায় শিল্প, কৃষি ও ব্যবসায় উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা আছে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”

এর পাশাপাশি মাদক নির্মূল, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের জন্য উদ্যোগ ও খেলার মাঠ তৈরি এসবকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এই প্রার্থী। সবুজ কুষ্টিয়া গড়তে গাছ লাগিয়ে নগরীর চিত্র বদলে দেওয়ার কাজেও তার ভূমিকা রয়েছে বলে স্থানীয়রা উল্লেখ করেন।

অপরদিকে একই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা নির্বাচিত হলে কুষ্টিয়াকে পাঁচ বছরের মধ্যে ‘সিঙ্গাপুরের মতো’ আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, “জনগণ সুযোগ দিলে ১০০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি বন্ধ করব। সরকারি অর্থ লুটপাট হতে দেব না, শতভাগ উন্নয়নে কাজে লাগাব।”

তার প্রধান অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে ইবি থানা এলাকায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পদ্মার হরিপুর-ভবানীপুরের মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালু করা। যদিও বেকারত্ব নিরসনে তার কৌশল স্পষ্ট নয় বলে ভোটাররা মন্তব্য করেন।

কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী রেজা আহমেদ বাচ্চু মাদক ও সন্ত্রাস দমনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “জীবন গেলেও মাদক ও সন্ত্রাস চলতে দেব না।” চরাঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করতে চিলমারী-মরিচা সড়কে সেতু নির্মাণ এবং প্রাগপুরে স্থলবন্দর স্থাপন করে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

একই আসনের জামায়াত প্রার্থী বেলাল উদ্দিন চরের উন্নয়ন, নদীভাঙন প্রতিরোধ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর মিরপুরে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া নদীভাঙন রোধ ও স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নও তার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী প্রতি ইউনিয়নে খেলার মাঠ, কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড, এবং যুব কর্মসংস্থান সৃষ্টির আশ্বাস দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বলেন, “প্রতিবার নির্বাচনের আগেই প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। অনেকে এমন সব কথা বলেন যা বাস্তবায়ন প্রায় অসম্ভব। জনগণের কল্যাণে বাস্তব ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ না করাও একধরনের প্রতারণা।”

কুষ্টিয়ার ভোটাররাও বলছেন, কথায় নয়, কাজেই আমরা প্রমাণ দেখতে চাই।