নতুন মৌসুমের বার্তা যেন এভাবেই দেন লিওনেল মেসি। ২০২৬ সালের প্রথম গোলটি এল প্রাক-মৌসুমের এক প্রীতি ম্যাচে। আর সেটাও আবার দারুণ নান্দনিকতায়। ইন্টার মায়ামির হয়ে ইকুয়েডরের ক্লাব বার্সেলোনা এসসির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
ম্যাচের সেই গোলটি ছিল দেখার মতো। মাঝমাঠ থেকে বল পায়ে নিয়ে এগিয়ে যান মেসি। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান। গোলকিপার হোসে কনত্রেরাস সেখানে ছিলেন একেবারেই অসহায়। নতুন বছরের শুরুতেই এই গোল যেন জানিয়ে দিল মেজর লিগ সকারে আবারও উত্তাপ ছড়াতে প্রস্তুত তিনি।
শুধু গোল নয়, ম্যাচে নতুন ফরোয়ার্ড জার্মান বের্তেরামেকে দিয়ে একটি গোল করান মেসি। মৌসুমজুড়ে এই জুটি যে ইন্টার মায়ামির আক্রমণের বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে, তার ইঙ্গিত মিলেছে এই প্রীতি ম্যাচেই। ক্লাব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে এমএলএস কাপ জয়ের পর এবারও শীর্ষে থাকার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে মায়ামি।
গত মৌসুমে মেসির পারফরম্যান্স ছিল চোখধাঁধানো। টানা দ্বিতীয়বারের মতো লিগের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জেতেন তিনি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ৪৮টি অবদান রেখে লিগ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জায়গায় উঠে আসেন। ২৯টি গোলের সঙ্গে ১৯টি অ্যাসিস্ট- এই কীর্তিতে তিনি গোল ও অ্যাসিস্ট দুটোতেই লিগসেরা হওয়া বিরল কীর্তির অংশীদার হন। যা আগে করেছিলেন সেবাস্তিয়ান জোভিনকো।
২০২৬ মৌসুম সামনে রেখে ইন্টার মায়ামির জন্য প্রত্যাশা তাই আকাশচুম্বী। বিশেষ করে এই বছরই ক্লাবটি উঠতে যাচ্ছে তাদের নতুন ঠিকানায় মায়ামি ফ্রিডম পার্কে। নতুন স্টেডিয়াম, বড় মঞ্চ আর মেসির নেতৃত্ব; সব মিলিয়ে ‘হেরন্স’দের স্বপ্ন এবার আরও বড়।
চাপ যে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এমন গোল যদি নিয়মিত আসতে থাকে, তাহলে গত মৌসুমের শেষের জায়গা থেকেই শুরু করতে পারবে মায়ামি। পাশাপাশি কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপ, লিগস কাপ ও এমএলএস; সব প্রতিযোগিতাতেই তাদের চোখ থাকবে সাফল্যের দিকে।
নিয়মিত মৌসুমের শুরুতে প্রথম চ্যালেঞ্জটাও কম নয়। ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়ে মুখোমুখি হতে হবে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির। যেখানে প্রতিপক্ষ দলে আছেন সন হিউং-মিনের মতো তারকা। তবে বর্তমান ছন্দে থাকা মেসিকে দেখে মনে হচ্ছে নতুন বছরেও রক্ষণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠতেই তিনি প্রস্তুত।