লা লিগার শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল বার্সেলোনা। শনিবার রাতে মায়োর্কার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে কাতালানরা দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে চার পয়েন্টে এগিয়ে গেল। ম্যাচে আলো ছড়ালেন কিশোর সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল। যিনি চোখ ধাঁধানো এক গোল করে নিজের প্রতিভার আরেকটি ঝলক দেখালেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। ২৯তম মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন রবার্ট লেভানডোস্কি। বাঁ দিক থেকে মার্কাস রাশফোর্ডের দুর্দান্ত দৌড় ও পাসের পর প্রথম শটটি প্রতিহত হলেও সুযোগ ছাড়েননি পোলিশ স্ট্রাইকার। নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর শান্ত মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেন তিনি।
এই মৌসুমে রাশফোর্ডের পারফরম্যান্স ক্রমেই উজ্জ্বল হচ্ছে। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে তার নেওয়া বাঁকানো ফ্রি-কিক ঠেকাতে অসাধারণ দক্ষতা দেখান মায়োর্কা গোলকিপার লিও রোমান। সেই বল ফিরেও আসে ইয়ামালের পায়ে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোললাইন থেকেই লক্ষ্যভ্রষ্ট করেন তরুণ তারকা।
তবে সেই মিসে ভেঙে পড়েননি ইয়ামাল। বরং ৬১তম মিনিটে নিজের জাত চেনালেন তিনি। বক্সের বাইরে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত, নিচু ও বাঁকানো শটে বল জালে পাঠান। এতটাই নিখুঁত ছিল শট যে গোলকিপার রোমান নড়ার সুযোগই পাননি। মুহূর্তেই পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ওঠে উচ্ছ্বাস।
শেষ দিকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বার্সেলোনা। ৮৩তম মিনিটে ঘরের ছেলে মার্ক বার্নাল করেন ক্যারিয়ারের প্রথম গোল। মাঝমাঠে টানা চারটি দ্রুত পাসে মায়োর্কার রক্ষণ ভেঙে তাকে একা পেয়ে যায় বল। ঠান্ডা মাথায় ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পোস্টের ভেতর বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ।
ইয়ামাল ও লেভানডোভস্কি বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার সময় বেঞ্চ থেকে করতালিতে অভিবাদন জানান বার্নালের গোলকে। এই জয় শুধু তিন পয়েন্টই নয়, শিরোপা লড়াইয়ে বার্সেলোনার আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে দিল বহুগুণ।
এখন রোববার ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ জিতলে ব্যবধান এক পয়েন্টে নামাতে পারে।