আর মাত্র তিন দিন পর হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনি প্রচারের শেষ মুহূর্তে দিনাজপুরের ছয়টি আসনে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ অন্য প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। প্রার্থীরা দিচ্ছেন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি। ভোটাররা জানিয়েছেন, দেখে-শুনে যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দেবেন তারা।
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল), দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ), দিনাজপুর-৩ (সদর), দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর), দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) ও দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও হাকিমপুর) আসনে ৯ জন স্বতন্ত্রসহ মোট ৪০ জন প্রার্থী বিভিন্ন মার্কা নিয়ে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
দিনাজপুরের শহর ও গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। হাতে লিফলেট প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। রাস্তায় এবং বিভিন্ন মোড়ে মিছিল, জনসংযোগ এবং পথসভা করা হচ্ছে।
দিনাজপুর-১ আসনের বীরগঞ্জ শহরে কথা হয় রিকশাচালক মমিনুল ইসলামের সঙ্গে। ভোট নিয়ে কথা বলতেই তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, “ভাই, আমরা গরিব মানুষ, ভোট নিয়ে আমাদের চিন্তা করে লাভ নাই। আমরা পরিশ্রম করে খাই, এভাবেই কষ্ট করে খেতে হবে। তবে, এবার নির্বাচনটা একটু ভালো হবে বুঝতে পারছি। আমি দেখে-শুনে ভোট দেব।”
দিনাজপুর-৩ সদর আসনে কথা হয় কয়েকজন অটোরিকশাচালক, দোকানদার ও পথচারীর সঙ্গে। তারা বলেন, “ভোট আসলেই আমাদের সম্মান চরম বেড়ে যায়। বড় বড় মানুষগুলো কাছে আসে এবং সম্মান দিয়ে নানা ধরনের আশা জাগায়। তবে, এবার কোনো ভয় নেই, আমরা যোগ্য প্রার্থীকেই ভোট দেব।”
দিনাজপুর-৬ আসনের হিলি বাজারে তৃতীয় লিঙ্গের বৈশাখীর সঙ্গে কথা হয় রাইজিংবিডি ডটকমের এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, “আমাদের দিনাজপুর-৬ আসনে এবার বিএনপির যোগ্য প্রার্থী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন স্যারকে পেয়েছি। তিনি বড় মাপের নেতা, আমরা তাকেই ভোট দিবো। তাকে ভোট দিলে অনেক উন্নয়ন হবে।”
হিলির বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ বলেন, “বিগত ১৭ বছর ভোটের মাধ্যমে আমরা প্রার্থী আনতে পারিনি। এবার সুযোগ এসেছে, যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দেব।”
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমার এই আসন মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার আসন। তার মৃত্যুতে দল আমাকে মনোনীত করেছে। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনব এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ।”
দিনাজপুর-৬ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “আমরা জনগণের জন্যই কাজ করছি। জনসেবা করাই জামায়াতে ইসলামীর কাজ। এই আসনে অনেক অসম্পূর্ণ কাজ আছে। নির্বাচিত হলে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পূর্ণ করব। এলাকায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে সমর্থনের জোয়ার এসেছে, ইনশাআল্লাহ আমরা বিজয়ী হবো।”
দিনাজপুর-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “দিনাজপুর-৬ আসন অবহেলিত। এখানে আগে তেমন উন্নয়ন হয়নি। বিগত দিনে মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা জনগণের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করছি। চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানের উন্নয়ন করব। হিলি স্থলবন্দরের আধুনিকায়নসহ আমার চার উপজেলার বেকার নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান গড়ে তুলব।”
দিনাজপুর জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ জেলার ছয়টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ৯৮৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ লাখ ২২ হাজার ৩১০ জন এবং নারী ১৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৫১ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ২২ জন।