প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়ে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়ে দিল ম্যানচেস্টার সিটি। রবিবার অ্যানফিল্ডে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টিতে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়ে শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখল পেপ গার্দিওলার দল।
নাটকীয় এই ম্যাচে সিটির নায়ক হয়ে উঠলেন আরলিং হালান্ড। অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে দারুণ এক জয় এনে দেন নরওয়েজিয়ান তারকা। বড়দিনের পর প্রিমিয়ার লিগে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল। আর অ্যানফিল্ডে দর্শকের সামনে সিটির হয়ে প্রথম জয় এনে দেওয়ার কৃতিত্বও তার।
ম্যাচের শেষদিকে দেখা যায় এক অদ্ভুত দৃশ্য। লিভারপুল গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার সমতায় ফেরার চেষ্টায় সামনে উঠে এলে মাঝমাঠ থেকে রায়ান শেরকির শট গোলের দিকে গড়াতে থাকে। সেই বলের পেছনে ছুটতে থাকেন হালান্ড ও ডোমিনিক সোবোস্লাই। দৌড়ের সময় সোবোস্লাই হালান্ডকে টান দেন, আর হালান্ডও তাকে ধরে রাখেন। এভাবেই বল জালে ঢুকে যায়।
ভিএআর পর্যালোচনার পর রেফারি সিদ্ধান্ত নেন, হালান্ডকে স্পষ্ট গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ফলে গোলটি বাতিল করা হয়, সিটিকে ফ্রি-কিক দেওয়া হয় এবং সোবোস্লাইকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
এর আগে ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ফ্রি-কিকে লিভারপুলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন সোবোস্লাই। শক্তিশালী শটে বল সোজা জালে জড়িয়ে যায়, আর সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোনারুমা প্রায় নড়তেই পারেননি।
সে সময় মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি লিভারপুলের দখলেই যাচ্ছে এবং শিরোপা দৌড়েও বড় সুবিধা পেতে যাচ্ছে আর্সেনাল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পাল্টে যায় দৃশ্যপট।
বার্নার্দো সিলভার শট অ্যালিসনের পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে ঢুকে সিটিকে সমতায় ফেরায়। এরপর ম্যাথিউস নুনেসকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় সিটি। স্পট কিকে দাঁড়িয়ে হালান্ড ভুল করেননি- সেখান থেকেই নিশ্চিত হয় সিটির নাটকীয় জয়।
ম্যাচের শুরুতে সিটি বলের দখলে এগিয়ে থাকলেও তেমন বড় সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। অন্যদিকে লিভারপুলও প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, যা এই মৌসুমে তাদের জন্য বারবার দেখা গেছে।
হালান্ডকে প্রথমার্ধে দুবার রুখে দেন অ্যালিসন। আর দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা পায় লিভারপুল। তবে শেষ পর্যন্ত বার্নার্দো সিলভা ও হালান্ডের যুগল আঘাতে ম্যাচ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের।
এই জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে আবারও জোরালোভাবে ফিরে এসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয় জয় প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড়কে আরও জমিয়ে তুলল।