বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ বেড়ে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দিন শেষে ৩৪ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২ ফেব্রুয়ারি বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ ছিল ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। ওই দিন গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রাখায় বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল আছে। বিশেষ করে, ডলারের দাম ১২২ থেকে ১২৩ টাকায় স্থিতিশীল। এছাড়া, কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি বন্ধ রাখে। বিপরীত দিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। ফলে, মাঝে মধ্যে বাজার থেকে ডলার কিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ফলে রিজার্ভ বাড়ছে।
এদিকে, সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ২০৯ মিলিয়ন ডলার কিনেছে। দেশের ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে এসব ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো থেকে মাল্টিপল অকশন পদ্ধতিতে এসব ডলার কিনেছে। নিলামের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত। এই প্রাইসেই ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ৭৯৫ মিলিয়ন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাসের এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৭২৮ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক নিলামে ডলার কেনার ফলে বাজারে তারল্য বাড়ছে। রিজার্ভে যোগ হচ্ছে নিলামে কেনা ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ২০২১ সালের আগস্টে সর্বোচ্চ উঠেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে সংকট মেটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করে। ফলে, ধীরে ধীরে কমতে থাকে রিজার্ভ। তা অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দিন পর আজ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে।