জাতীয়

নির্বাচনে আনসার-ভিডিপির চূড়ান্ত প্রস্তুতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬-কে উৎসবমুখর, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দেশব্যাপী প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

এছাড়াও, তিনি জানান, পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আধুনিক ডিজিটাল তদারকির সমন্বয়ে বাহিনীকে যুগোপযোগী, স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে। এর লক্ষ্য একদিকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা, অন্যদিকে জনগণের আস্থা আরো সুদৃঢ় করা। এই ধারাবাহিকতায় দেশের প্রতিটি জেলায় নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আর্মি স্টেডিয়ামে ঢাকা মহানগর আনসারের এক বিশাল প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

আনসার মহাপরিচালক বলেন, “ঐতিহ্যগত ও সেকেলে পদ্ধতি ভেঙে আমরা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করেছি। সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন থেকে শুরু করে খাবার ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ এখন স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। এর ফলে বাহিনীর সদস্যরা যেকোনো অনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে নিজ বিবেক ও কমান্ড অনুযায়ী দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত হচ্ছেন।”

বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা কেবল একটি বাহিনীর সদস্য নন—আপনারা জাতীয় পতাকার মর্যাদার রক্ষক এবং সাধারণ ভোটারের প্রতিনিধি। আপনারা কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের নন; দেশের মাটি ও মানুষের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই আপনাদের একমাত্র পরিচয়।”

তিনি জানান, এবারই প্রথম ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সরাসরি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল মনিটরিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি মুহূর্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিভ্রান্তি রুখতে বাহিনী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সজাগ ও সক্ষম থাকবে। ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা বা শৃঙ্খলা বিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কঠোর আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নির্বাচনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র, সরঞ্জাম বা দায়িত্ব পালন সংক্রান্ত ব্যক্তিগত ও শৃঙ্খলাবহির্ভূত কোনো ছবি বা ভিডিও প্রচার করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেন মহাপরিচালক।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী মনে করে, প্রতিটি সদস্যের সততা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার ওপরই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রস্তুতি শুধু একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করবে না, বরং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী করবে।

তিনি বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬-এ আনসার ও ভিডিপির এই আধুনিকায়ন ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক, টেকসই ও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।”

সমাবেশে তিনি নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে ‘নির্বাচনি সুরক্ষা অ্যাপস’, সমন্বিত সিকিউরিটি রেসপন্স সিস্টেম এবং আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সদস্য বাছাই, সার্টিফিকেশন ও ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো আধুনিক ডিজিটাল তদারকি ব্যবস্থার সফল প্রয়োগের কথা তুলে ধরেন।

এ সময় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।