কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আমির হামজার নির্বাচনি প্রচারণায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ইকবাল হোসেন বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে দলটির মিডিয়া সেলের আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলা হয়। সেখানে বলা হয়, আমির হামজার নির্বাচনি প্রচারে ব্যবহৃত ব্যানার ও লিফলেটে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ নেই। যা নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার বলেন, “আমরা আচরণবিধি লঙ্ঘনের একাধিক সুস্পষ্ট অভিযোগ দিয়েছি। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে প্রতিকার পাওয়া গেলেও বেশ কয়েকটি অভিযোগে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
বিএনপির অভিযোগে আরো বলা হয়, গত ২৭ জানুয়ারি কুষ্টিয়া সদর আসনের এক ভোটার সৌদি আরব প্রবাসী ফারহান আহমেদ মুকুল নির্ধারিত সময়ে ভোটার নিবন্ধন করতে গিয়ে জানতে পারেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে আগেই কেউ নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে। এ ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এছাড়া পরদিন এক উঠান বৈঠকে খাবার বিতরণের অভিযোগ নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে জমা দেওয়া হলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়। একই দিনে আলোকসজ্জায় সজ্জিত দাঁড়িপাল্লা ও দাঁড়িপাল্লা সদৃশ বস্তু প্রদর্শনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মিডিয়া সেলের প্রধান আবু বকর সিদ্দীক বলেন, “জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর লিফলেটে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও প্রচার সামগ্রীর সংখ্যা উল্লেখ না করায় রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচনি বিচারিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল গফুর বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার জাকির সরকার সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের দলীয় প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণরূপে ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। আমির হামজার জনপ্রিয়তার ঈর্ষান্বিত হয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলনে একটি কাল্পনিক বক্তব্য দিয়েছেন, যা সত্য নয়।”