সারা বাংলা

সংসদ নির্বাচন: চট্টগ্রামে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসন।

নির্বাচনের মাঠে ১১২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে কোনো ধরনের ব্লেইম গেম বা নাটকের সুযোগ নেই। 

তিনি জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম জেলাকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে কাজ করছে ৪০ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট ও স্ট্রাইকিং ফোর্স নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকেই এসব ফোর্স মহড়া শুরু করেছে।

জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে স্ট্রাইকিং ফোর্সের আওতায় আনা হয়েছে। পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রে সমস্যা দেখা দিলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে ফোর্স পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক বলেন, “সব ভোটকেন্দ্র ইতোমধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আনসার বাহিনীর একটি সুরক্ষা অ্যাপ চালু রয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বডি অন ক্যামেরা ব্যবহার করছেন। ফলে অনিয়মের সুযোগ নেই এবং দায় এড়ানো সম্ভব হবে না।”

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকেই মোবাইল টিম পুরো জেলায় সক্রিয় আছে। এবারের নির্বাচন শুধু ভোট গ্রহণ বা ফল প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মূল লক্ষ্য হলো উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। ভোটাররা যেন নিরাপদে ও হাসিমুখে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।”

জেলা প্রশাসক জানান, “প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।”