আন্তর্জাতিক

‘নির্বাচনে জিতলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার’

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়ী হলে সবার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা দরকার, যাতে মানুষ নিরাপদ থাকে।” খবর ফ্রান্স টুয়েন্টিফোরের। 

তারেক রহমানের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এএফপি। তাতে বলা হয়, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশকে ঘিরে ধরেছে, তার অবসানের জন্য তারেক রহমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারকে প্রথম অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানান। 

লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান এখন বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতির সামনে বসে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমরা জনগণের কাছ থেকে একটি স্পষ্ট ও বড় ম্যান্ডেট আশা করছি। নিজস্ব সরকার গঠনের জন্য আমাদের পর্যাপ্ত আসন থাকবে।” জোট সরকারের প্রয়োজনীয়তা তিনি আপাতত দেখছেন না বলেও জানান।

১৭ কোটি মানুষের এই দেশে সামনের কাজগুলো অত্যন্ত কঠিন হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ এনে তারেক রহমান বলেন, “অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে। গত শাসনামলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতকেও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।”

বিএনপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, “মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে অনেক ধনী বানানো হয়েছে, কিন্তু দেশের বাকি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই রাখা হয়নি।”

নির্বাচিত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক এই দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশা মোকাবিলা করা হবে তার প্রধান কাজগুলোর একটি। তারেক রহমান বলেন, আমাদের সামনে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ রয়েছে- অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে। দেশে বিশাল সংখ্যক বেকার রয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বিদেশি সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান সতর্ক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমার দেশের মানুষের স্বার্থ এবং দেশের স্বার্থই সবার আগে।” তবে এর পাশাপাশি তিনি যোগ করেন, “বাংলাদেশ তার চারপাশের দেশগুলোর সঙ্গে অন্তত একটি ‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’ বজায় রাখতে চায়।”

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরা তারেক রহমান নিজের বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে পরিমিত স্বরে বলেন, “তারা তাদের মতো ছিলেন, আমি আমার মতো। তবে আমি তাদের চেয়েও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।”