সারা বাংলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেহেদী উৎসব   

নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসতে থাকে মাঠের উত্তাপ, রাজপথে সংঘাত এবং সাধারণ মানুষের মনে অজানা শঙ্কা বাড়তে থাকে। কিন্তু এই পুরোনো ছক ভেঙে চাঁপাইনবাবগঞ্জে দেখা গেল নতুন এক নির্বাচনের প্রতিচ্ছবি। ভয়ের সংস্কৃতি তুড়ি মেরে উড়িয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ‘মেহেদী উৎসবে’ মেতে উঠল সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের এই আয়োজনের উদ্দেশ্য যেমন মহৎ, তার রূপটিও শৈল্পিক। 

মঙ্গলবার বিকেলে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এই মেহেদী উৎসবের আয়োজন করা হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, শহিদ মিনারের বেদিতে বিছানো লাল কার্পেটে গোল হয়ে বসেছেন একদল তরুণ-তরুণী। তারা একে অপরের হাতে মেহেদীর নিপুণ আল্পনা এঁকে দিচ্ছেন। নাগরিক অধিকার ফিরে পাওয়ার আনন্দে তারা রাঙাচ্ছেন দুহাত। এই আল্পনার আড়ালে লুকিয়ে আছে দীর্ঘ ১৭ বছরের এক জমাটবদ্ধ আক্ষেপ আর প্রতীক্ষার অবসান।

মেহেদী উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, গত দেড় যুগেরও বেশি সময় এ দেশের সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পায়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সেই ক্ষণ স্মরণীয় করে রাখতেই তারা এই উৎসবের আয়োজন করেছেন।

উৎসবে অংশ নেওয়া মো. ফয়সাল নামে এক শিক্ষার্থী বলছিলেন তার শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকে নির্বাচনে কেবল অশান্তি আর ভয়ের কথাই শুনে বড় হয়েছি। কিন্তু এবার সেই অন্ধকার ধারণাটি বদলে দিতে চাই। নির্বাচন যে একটি উৎসব হতে পারে, একে অপরের হাত রাঙিয়ে সেই বার্তা পৌঁছে দিতে চাই সবার কাছে।’’

অপর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ হিল কাফি জানান, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগে করা হয়েছে। হাতের তালু তাদের ক্যানভাস। মেহেদীর রঙে সেখানে ফুটে উঠছে — ‘গণভোটে হ্যাঁ দিন’, ‘নির্বাচনে সচেতন প্রার্থীকে ভোট দিন’ কিংবা ‘উন্নয়নমূলক চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাই’ এমন সচেতনতামূলক বার্তা। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব সাব্বির হোসেন বলেন, ‘‘এই মেহেদী উৎসবের বার্তা একটাই— সেটা হলো আগামীর বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। এই উৎসবে যারা অংশ নিয়েছে তারা সবাই তরুণ।  আগামীতে তরুণরাই দেশের নেতৃত্বে আসবে। জুলাই আন্দোলনের পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তারা, এটাই এই উৎসবের বার্তা। 

মেহেদী উৎসবে কলেজের শতাধিক তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছেন।