সারা বাংলা

কঠোর নিরাপত্তার পরেও শঙ্কা কাটছে না বরিশালের প্রার্থীদের

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ভোটের দিন বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্যকে মাঠে সক্রিয় করা হয়েছে। এছাড়া  জিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে বরিশাল জেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার দূর্গম এলাকা। এমনকি নদী পথেও মোতায়েন রয়েছে নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড। তবুও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহনের বিষয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বরিশালের ছয়টি সংসদীয় আসনের প্রার্থী এবং ভোটাররা। 

নির্বাচনী প্রচার বন্ধ হওয়ার পর থেকে শুরু করে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত বিভিন্ন আসনের প্রার্থীরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন তাদের শঙ্কার কথা। সবশেষ বুধবার দুপুরে বরিশাল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাজিব আহসান অভিযোগ করেন, তার নির্বাচনী এলাকায় বাইরের আসন থেকে (যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী নেই) জামায়াতের নেতাকর্মীরা এসে অবস্থান করায় তিনি আতঙ্কিত বোধ করছেন।

একইদিন বরিশাল-৬ আসনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার। তিনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার, অসহযোগিতা ও পক্ষপাতমূল আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লার কর্মী সমর্থক ও এজেন্টদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন।

অপরদিকে, বরিশাল-১ আসনের ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, একটি দলের প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা তার (ফুটবল) মার্কার কর্মী সমর্থক ও এজেন্টদের বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া তারা সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে গিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রতীক দেখিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। যেকারণে তিনি (ইঞ্জিনিয়ার সোবহান) ভোটগ্রহণের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের আসতে যেন কেউ বাধা প্রদান করতে না পারে সেজন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

এর আগে বরিশাল-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ নির্বাচনের দিন শঙ্কার কথা জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এছাড়া বরিশালের একাধিক প্রার্থী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী এলাকায় বিশেষ দলের ক্যাডারদের হুমকি, কেন্দ্রে যেতে বাঁধা ও নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন।

জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিভিন্নস্থানে একাধিক হামলা মামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রার্থীসহ কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেও প্রশাসন থেকে অভিযোগ করা প্রার্থীরা কোনধরনের সহযোগিতা পায়নি বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সূত্র জানায়, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরির মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র‌্যাবের সমন্বয়ে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সেখানে নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বড় একটি জনবল নিয়োগ করা হয়েছে পুলিশ ও আনসার বাহিনী থেকে। বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রে দুইজন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে তিনজন করে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। জেলায় সর্বমোট ১ হাজার ৩৮২ জন পুলিশ সদস্যর পাশাপাশি ৯৯টি মোবাইল টিম এবং ১২টি স্ট্রাইকিং টিম কাজ করছে। বরিশাল জেলার প্রতি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন ও মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন করে সেনা সদস্য অবস্থান করবেন। এছাড়া প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে পেট্রোল টিম কাজ করছে। পাশাপাশি বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার বিভিন্নস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে। 

বরিশালের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দীন বলেন, “আমরা সম্পূর্ন নিরপেক্ষভাবে পেশাদারিত্বের সাথে আমাদের উপর অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন করি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভোটাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটের জন্য সুষ্ঠ সুন্দর ও শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের মুল লক্ষ্য। এ কাজে বাধাদানকারী সে যেই হোক না কেন, আমরা  কঠোর হস্তে তাদের দমন করব।”

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, “এবারের নির্বাচনে দিনের ভোট দিনেই হবে। যার ভোট সে দিবে। ভোটার ও প্রার্থীর নিরাপত্তা দেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভোটদানে কেউ বাধার সৃস্টি করলে কোনোভাবেই তাকে ছাড় দেওয়া হবে না-সে যে দলেরই হোক।”

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ বা শঙ্কা নেই। প্রশাসন জেলার সর্বত্রই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করেছে।” তিনি ভোটারদের নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহবান জানান।