অনেক মানুষ আছেন, যারা কিছুদূর পর্যন্ত হাঁটলেই ক্লান্তি বোধ করেন। এই শারীরিক অবস্থার পেছনে দায়ী থাকতে পারে জীবনযাপনের অভ্যাস কিংবা গুরুতর শারীরিক অসুস্থতা। তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে এমন ক্লান্তি অনুভব করেন যা আপনার দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে, তাহলে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কেননা এটি সাধারণ ক্লান্তি না হয়ে হৃদ্যন্ত্রজনিত ক্লান্তি হতে পারে।
হৃদ্যন্ত্র শরীরের প্রতিটি অংশে রক্ত সঞ্চালন করে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দেয়। কিন্তু হৃদ্যন্ত্র সঠিকভাবে কাজ না করলে রক্তসঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যার ফলে দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিক ক্লান্তি।
মনে রাখতে হবে, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাজনিত ক্লান্তির কিছু বিশেষ লক্ষণ থাকে, যা সাধারণ চাপ বা ঘুমের অভাবজনিত ক্লান্তির থেকে আলাদা।
এই লেখায় হৃদ্যন্ত্রজনিত ক্লান্তি চেনার উপায়, ক্লান্তির পেছনে থাকা সাধারণ হৃদ্রোগসমূহ, জরুরি সতর্ক সংকেত, এবং রোগ নির্ণয় সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়েই এসব লক্ষণ শনাক্ত করা গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব হয় এবং সুস্থতার সম্ভাবনাও বাড়ে।
কীভাবে বুঝবেন ক্লান্তি হৃদ্যন্ত্রজনিত?
যে ক্লান্তি পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও কমে না এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমিয়ে দেয়, তাকে প্রকৃত বা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বলা হয়। সাধারণ ক্লান্তির তুলনায় হৃদ্যন্ত্রজনিত ক্লান্তি বেশি তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর প্রধান কারণ হতে পারে হৃদ্যন্ত্রের রক্ত পাম্প করার সক্ষমতা কমে যাওয়া, ফলে শরীরের বিভিন্ন টিস্যু পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। এ ধরনের ক্লান্তির সঙ্গে কিছু সতর্ক সংকেতও দেখা দিতে পারে।
সম্ভাব্য সতর্ক লক্ষণগুলো হলো— এক. সিঁড়ি ভাঙা বা অল্প হাঁটার মতো সাধারণ কাজেও শ্বাসকষ্ট অনুভব হওয়া।
দুই. ক্লান্তির সঙ্গে বুকের অস্বস্তি, চাপ বা ব্যথা থাকতে পারে; কারও ক্ষেত্রে অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন বা দ্রুত হার্টবিটও দেখা যায়।
তিন. পা, গোড়ালি বা পায়ের পাতা ফুলে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম ভাব অনুভব হওয়া।
চার. আগে সহজে করা যেত এমন কাজ করতে এখন দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া, ব্যায়াম বা শারীরিক কাজের সহনশীলতা কমে যাওয়া এবং মাঝেমধ্যে বিরতি নেওয়ার প্রয়োজন বেড়ে যাওয়া।
এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সূত্র: অ্যাপেলো স্প্রেকট্রা হসপিটাল