রাজনীতি

প্রমাণ আছে, কিছু আসনে টেম্পারিংয়ের চেষ্টা হচ্ছে: আসিফ মাহমুদ

কিছু কিছু আসনে ফলাফল টেম্পারিং করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। ভোট জালিয়াতির এই অপচেষ্টার ‘প্রমাণ’ আছে বলেও তিনি দাবি করেন। 

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, ‘‘যখন তারা দেখল যে কিছু আসনে বিএনপির প্রার্থীরা হেরে যাচ্ছেন এবং ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল, তখনই তাদের হারানোর উদ্দেশ্যে ফলাফল টেম্পারিং করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর স্পষ্ট প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’’

‘‘ঢাকা-১৭ আসনে আমরা দেখতে পেলাম, ৫০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষ না হতেই একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে দেওয়া হলো। মিডিয়ার মাধ্যমে এক ধরনের ম্যানিপুলেশন এবং ফলাফল পরিবর্তনের যে আশঙ্কার কথা আমরা গত কয়েকদিন ধরে বলে আসছিলাম, এখানে সেটিই প্রতিফলিত হয়েছে।’’

অভিযোগগুলো গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না দেওয়ার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। 

১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের আসনগুলোতেই সুনির্দিষ্টভাবে ভোট গণনায় কারচুপির চেষ্টা চলছে দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘এটি কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার লক্ষ্যেই এ ধরনের কাজ করা হচ্ছে।’’

‘‘আমরা লক্ষ্য করেছি যে জামায়াতের আমিরের আসন, আমাদের (নাগরিক পার্টি) আসন এবং খেলাফত মজলিসের আমিরের আসনে বিশেষভাবে এই অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে,’’ বলেন তিনি। 

এনসিপির মুখপাত্রের অভিযোগ, ঢাকা-৮ আসনে যে ভোটটি মার্কার বক্সে পড়েনি, খালি জায়গায় পড়া সিলটিকে ধানের শীষের পক্ষে গণনা করে ফলাফল ঘোষণার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভোট পুনরায় গণনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটা স্পষ্ট প্রমাণ করে যে বাতিল ভোটগুলোকে কাউন্ট করে মির্জা আব্বাসকে বিজয়ী করার এক ধরনের ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ওপর ভরসা করতে পারছি না। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে নির্বাচন কমিশন এখানে ভোট কাউন্ট করে একটা ফলাফল দেবে। আর ফল্ট ভোটগুলোকে বাতিল করতে হবে।’’

বিজয়ী প্রার্থীদের ফলাফল ঘোষণা না করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতে মিডিয়ার মাধ্যমে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।