খেলাধুলা

বার্সাকে গুঁড়িয়ে ফাইনালের দোরগোড়ায় আতলেতিকো

মাদ্রিদের রাতটা ছিল একেবারে লাল-সাদা রঙে রাঙানো। নিজেদের মাঠে শুরু থেকেই আগ্রাসী, সংগঠিত এবং নির্মম ফুটবল খেলল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষ বার্সেলোনাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে প্রথম লেগেই ৪-০ ব্যবধানে বিশাল জয় তুলে নিয়ে কোপা দেল রে ফাইনালের পথে বড় পদক্ষেপ রাখল দিয়েগো সিমেওনের দল।

মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে সেমিফাইনালের এই ম্যাচে আতলেতিকোর গোল উৎসবে নাম লেখান আঁতোয়ান গ্রিজমান, আদেমোলা লুকমান ও জুলিয়ান আলভারেজ। শুরুতেই আত্মঘাতী গোলের সুবিধা পেয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দ্রুত নিজেদের হাতে নেয় স্বাগতিকরা।

খেলা শুরুর তিন মিনিটেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল আতলেতিকো। তবে আসল ধাক্কাটা আসে দুই মিনিট পর। ডিফেন্ডারের ব্যাকপাস সামলাতে গিয়ে অপ্রত্যাশিত ভুল করেন বার্সার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া। বল থামাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। আর সেটাই গড়িয়ে যায় জালে। অল্প সময়েই ১-০।

গোল খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই ১৪ মিনিটে দ্বিতীয় আঘাত। ডান দিক থেকে আসা পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন গ্রিজমান। বার্সার রক্ষণ তখনো এলোমেলো।

২০ মিনিটের মাথায় ফের্মিন লোপেসের ভলি ক্রসবারে না লাগলে হয়তো ম্যাচে ভিন্ন সুর আসত। কিন্তু সেটাই ছিল বিরল সুযোগ। আতলেতিকো আক্রমণে ছিল অনেক বেশি ধারালো।

৩৩ মিনিটে লুকমানের নিচু শটে স্কোরলাইন ৩-০। নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ডের আগমনের পর থেকে আতলেতিকোর আক্রমণে যে নতুন গতি এসেছে, তার প্রতিফলন মিলল এই গোলেও।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আলভারেসের জোরালো শটে চতুর্থ গোল। এবার কার্যত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়। বিরতির আগেই ৪-০ ব্যবধান, আর বার্সেলোনা সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত।

বিরতির পর কিছুটা গুছিয়ে খেলতে চেষ্টা করে বার্সেলোনা। লামিনে ইয়ামালের ফ্রি-কিক থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও ভিএআর বিশ্লেষণের পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেটি।

শেষ দিকে এরিক গার্সিয়ার লাল কার্ড বার্সার দুর্দশা আরও বাড়ায়। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের হেড পোস্ট ঘেঁষে বাইরে গেলে সম্ভাব্য সান্ত্বনা গোলটিও অধরাই থেকে যায়।

চোটের কারণে মার্কাস র‍াশফোর্ড ও রাফিনিয়ার অনুপস্থিতি বার্সেলোনার আক্রমণভাগে প্রভাব ফেলেছে স্পষ্টভাবেই। অন্যদিকে সিমেওনের দল পরিকল্পিত প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং নির্ভুল ফিনিশিংয়ে ম্যাচ একতরফা করে তোলে।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রথমার্ধেই আতলেতিকো লক্ষ্যে যত শট নিয়েছে, পুরো ম্যাচে তার কাছাকাছিও যেতে পারেনি বার্সেলোনা। ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে ফ্লিকের দলের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

গত মৌসুমেও এই দুই দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল। তখন নাটকীয় লড়াই শেষে ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা। এবার চিত্র পুরো উল্টো। ৩ মার্চ ক্যাম্প ন্যুতে ফিরতি লেগে অবিশ্বাস্য কিছু না ঘটলে ফাইনালের টিকিট প্রায় নিশ্চিত আতলেতিকোর।