সারা বাংলা

মানিকগঞ্জের দুর্গ ফিরে পেল বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনেই জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় পর জেলার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দলটি আবারো নিজেদের শক্ত অবস্থান দৃশ্যমান করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময়ের পুরোনো দুর্গই ফিরে পেল বিএনপি।  

মানিকগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে একাধিক আসনে দলটি সাফল্য পায়। তবে ২০০৮ সালের পর আসন পুনর্বিন্যাস এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় পর সংগঠনকে সক্রিয় রাখা ও মাঠপর্যায়ে প্রচার জোরদার করার ফলেই বিএনপি এই সাফল্য পেয়েছে।

চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ-১, মানিকগঞ্জ-২ ও মানিকগঞ্জ-৩ এই তিনটি আসনেই ধানের শীষের প্রার্থীরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় অর্জন করেছেন। দলটির নেতাকর্মীরা এই ফলাফলকে সংগঠনের পুনরুত্থান হিসেবে দেখছেন।

মানিকগঞ্জ–১ (ঘিওর, দৌলতপুর ও শিবালয়) ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর পেয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৭৬ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী তোজাম্মেল হক তোজা (ঘোড়া প্রতীক) পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৮১৮ ভোট। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পান ৭১ হাজার ৩১০ ভোট।

মানিকগঞ্জ–২ (সিংগাইর, হরিরামপুর ও সদর) ১৮৬টি কেন্দ্রের এ আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্ত পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৭৬ ভোট। খেলাফত মজলিসের মো. সালাহ উদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক) পান ৮১ হাজার ৫৩১ ভোট এবং জাতীয় পার্টির এস এম আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল প্রতীক) পান ৭ হাজার ৮১ ভোট। এ আসনেও বিএনপি বড় ব্যবধানে জয় পায়।

মানিকগঞ্জ–৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) ১৫২টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আফরোজা খানম রিতা পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নুর (রিকশা প্রতীক) পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান আতা (ফুটবল প্রতীক) পান ২০ হাজার ৫৫১ ভোট। এখানেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয় নিশ্চিত করেন।