রাজনীতিতে বিজয়ের পর প্রার্থীদের মধ্যে দূরত্ব, বিরূপতা কিংবা প্রতিহিংসার চিত্র নতুন নয়। তবে ঝিনাইদহ-১ আসনে এবার দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য। জয়-পরাজয়ের সীমারেখা পেরিয়ে মানবিকতা ও সৌহার্দ্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী।
বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফুলের মালা নিয়ে হাজির হন জামায়াত মনোনীত পরাজিত প্রার্থী আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমানের বাড়িতে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের নাদপাড়া গ্রামে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে তৈরি হয় ভিন্ন এক আবহ।
কুশল বিনিময়ের পর নিজের বিজয়ের মালা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গলায় পরিয়ে দেন আসাদুজ্জামান। উপস্থিত নেতাকর্মী ও গ্রামবাসীর কাছে মুহূর্তটি ছিল প্রতীকী, তবে তাৎপর্যে গভীর। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীতার বাইরে পারস্পরিক সম্মান ও সম্পর্কের বার্তাই যেন সামনে আসে এ ঘটনায়।
ঝিনাইদহ-১ আসনের ভোটাররা অতীতে জয়-পরাজয়ের পর উত্তেজনা, হামলা কিংবা ভাঙচুরের নজির দেখেছেন। কিন্তু এবারের দৃশ্য ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। অনেকেই এটিকে শান্ত ও সৌহার্দ্যপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এ সময় অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান সমর্থক ও গ্রামবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটে জয়-পরাজয় থাকবেই, তবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্যই হোক নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি। জুলাইয়ের আন্দোলন ও তরুণদের আত্মবলিদান যেন বৃথা না যায়—সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয়দের মতে, এমন উদ্যোগ রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতি চর্চায় সহায়ক হবে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে গণতান্ত্রিক চর্চা শক্তিশালী করার এই বার্তা শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারাদেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ।
ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান। তিনি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবু সালেহ মোঃ মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পান ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট। প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন আসাদুজ্জামান।