ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১১ (রামপুরা, বাড্ডা, ভাটারা ও হাতিরঝিলের আংশিক এলাকা) আসনে পরিকল্পিত কারচুপি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী এম এস কাইয়ুম।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাড্ডায় সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
এম এস কাইয়ুম দাবি করেন, ঢাকা-১১ আসনের ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিলেও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে তাকে পরাজিত দেখানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৬২টি কেন্দ্রের প্রায় সবগুলোতেই তাদের পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে।
এম এস কাইয়ুমের অভিযোগ, গণনার সময় বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিল করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ছিল। ভোট গণনায় তিনি এগিয়ে থাকলেও পরবর্তীতে কয়েকটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে অস্বাভাবিকভাবে ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কিছু কেন্দ্রে ভোটের ফল ঘোষণা বিলম্বিত করা হয় এবং পরে ডাকযোগে প্রদত্ত ভোট (পোস্টাল ব্যালট) যোগ করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
এম এস কাইয়ুম বলেন, “অনেক কেন্দ্রে বিএনপির পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।”
বিএনপি প্রার্থী জানান, নির্বাচনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে আইনি লড়াই করা হবে।
তিনি ঢাকা-১১ আসনে ভোট পুনর্গণনা (রিকাউন্ট) এবং প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানান।
তবে, জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির বিজয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের কল্যাণে কাজ চালিয়ে যাবেন।
ঢাকা-১১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাহিদ ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে জয়ী হয়েছেন। মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন তিনি। এম এস কাইয়ুম পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। এ আসনে মোট ৪৪ দশমিক ৭২ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।