সারা বাংলা

নির্বাচনে অংশ না নিয়েও ‘হারলেন’ কাদের সিদ্দিকী! 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি’ দাবি করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী নির্বাচনে অংশ না নিলেও ব্যক্তিগতভাবে বড় ভাই আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ও টাঙ্গাইল-৮  আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণা ও পথসভায় অংশ নেন।

‘নির্বাচনের পরিবেশ নেই’ বলে নির্বাচন প্রত্যাহার করে দুই প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি আলোচিত হয়। নির্বাচনে ওই দুই প্রার্থী হেরে যাওয়ার পর স্থানীয়রা মনে করছেন কাদের সিদ্দিকী নির্বাচনে অংশ না নিয়েও দুটি আসনে হেরেছেন।

গত ২৭ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা থেকেই কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের জন্ম। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সে ধরনের নির্বাচনি পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জানমালের নিরাপত্তাহীনতা ও সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ না থাকায় দলটি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ায়। 

কাদের সিদ্দিকী জাতীয় নির্বাচনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে দূরে রাখলেও রাজনৈতিকভাবে তিনি আলোচনার বাইরে থাকেননি। নিজে প্রার্থী না হলেও মাঠে সক্রিয় ছিলেন দুই ভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে। 

কিন্তু নির্বাচনে লতিফ সিদ্দিকী হাঁস প্রতীকে ৬২ হাজার ৫০৯ ভোট পেয়ে হেরে যান। অন্যদিকে টাঙ্গাইল-৮ আসনে হেরে যান কাদের সিদ্দিকী সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল। তিনি হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩০ ভোট।

বাসাইলের স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘‘নির্বাচনি পরিবেশ মনের মতো না হওয়ায় কাদের সিদ্দিকীর দল নির্বাচনে অংশ না নিলেও দুই আসনে বিএনপির প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তিনি কাজ করেছেন। এটা লজ্জাজনক। আমরা বলতে চাই, নির্বাচনে অংশ না নিয়েও কাদের সিদ্দিকী দুই আসনে হেরেছেন।’’

জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন, ‘‘কাদের সিদ্দিকী সবসময় আলোচনায় থাকতে ভালোবাসেন। যে কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপির প্রার্থীদের বিরোধীতা করতে ও তাদের পরাজিত করতে উঠেপরে লেগেছিলেন। কিন্তু টাঙ্গাইলের ওই দুটি আসনের ভোটাররা ঠিকই ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করেছেন। এ কারণেই মানুষ বলছে, নির্বাচনে অংশ না নিয়েও তিনি হেরেছেন।’’