ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী বিভাগের ৩২ প্রার্থীর মধ্যে ২০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া বাকি সব প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা প্রশাসক ও জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, কোনো আসনে মোট প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে সেই প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়।
রাজশাহী-১ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৫১ হাজার ৮৪৪টি। এ আসনে জামানত রক্ষা করতে প্রত্যেক প্রার্থীকে কমপক্ষে ৪৩ হাজার ৯৮১টি ভোট পেতে হতো। এ আসনে ৩ জন প্রার্থী সে পরিমাণ ভোট পাননি। গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মির মো. শাহজাহান পেয়েছেন ৪০৭ ভোট। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী আব্দুর রহমান পেয়েছেন ১১ হাজার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আল সাআদ পেয়েছেন ৬৬৩ ভোট।
রাজশাহী-২ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৯১৬টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হতো কমপক্ষে ২৯ হাজার ৪৯০টি ভোট। তবে, ৪ জন প্রার্থী সে পরিমাণ ভোট পাননি। আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী মু. সাঈদ নোমান পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী সামছুল আলম পেয়েছেন ৫৫২ ভোট। বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী মেজবাউল ইসলাম পেয়েছেন ৩৮৭ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ পেয়েছেন ৮০১ ভোট।
রাজশাহী-৩ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হতো কমপক্ষে ৪০ হাজার ৯২৬টি ভোট। এ আসনে ৪ জন প্রার্থী সে পরিমাণ ভোট পাননি। আম জনতার দলের প্রার্থী সাইদ পরভেজ পেয়েছেন ২৯৫ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ফজলুর রহমান ভোট পেয়েছেন ১ হাজার ১৫৪ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী অফজাল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৩৯০ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবীবা বেগম পেয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ ভোট।
রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ১৯০টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হতো কমপক্ষে ২৮ হাজার ৮৯৯ ভোট। দুজন প্রার্থী সে পরিমাণ ভোট পাননি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী তাজুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৭০ ভোট ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফজলুল হক পেয়েছেন ১ হাজার ৭৫৯ ভোট।
রাজশাহী-৫ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৬টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের কমপক্ষে ৩০ হাজার ৪৩০টি ভোট পেতে হতো। এ আসনে পাঁচজন প্রার্থী সেই পরিমাণ ভোট পাননি। বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা পেয়েছেন ৯৩৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রুহুল আমিন পেয়েছেন ৬২০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসফা খাইরুল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৪৯৬ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাউসার পেয়েছেন ৪৪২ ভোট। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম পেয়েছেন ৬ হাজার ৪৩২ ভোট।
রাজশাহী-৬ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩০২টি। এ আসনে জামানত বাঁচাতে প্রার্থীদের পেতে হতো কমপক্ষে ৩১ হাজার ৬৬৩ ভোট। এ আসনে দুজন প্রার্থী সে পরিমাণ ভোট পাননি। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুস সালাম সুরুজ তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৬২৮ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল হোসেন পেয়েছেন ২ হাজার ৯৩০ ভোট।
রাজশাহী সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা মোতাওয়াক্কিল রহমান বলেছেন, “যেকোন প্রার্থীকে জামানত বাঁচাতে তার আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট পেতে হবে। সে পরিমাণ ভোট না পাওয়ায় রাজশাহীর ৬টি আসনে মোট ২০ জন প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে।”