বিনোদন

হৃতিকের নাটকীয় প্রেম, বেদনাবিধুর বিচ্ছেদ

ভালোবেসে ঘর বাঁধেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশান ও সুজান খান। যদিও এ প্রেমের সমাপ্তি বেদনাবিধুর! হৃতিক-সুজানের প্রথম দেখা, প্রেম ও পরিণয় যথেষ্ট সিনেমাটিক। এ জুটির প্রেমের গল্প নিয়েই এই প্রতিবেদন—

ট্র্যাফিক সিগন্যালে প্রথম দেখা হৃতিক রোশান ও সুজান খানের প্রথম দেখা খুবই সাধারণ একটি পরিস্থিতিতে হয়েছিল। বলা যায়, অনেকটা মজার এবং সিনেমাটিকও। কারণ এ জুটির প্রথম দেখা হয়েছিল—একটি ট্র্যাফিক সিগন্যালে। দু’জনের গাড়ি একটি সিগন্যালে পাশাপাশি এসে দাঁড়িয়েছিল; ঠিক তখনই হৃতিকের চোখ পড়ে সুন্দরী এক নারীর দিকে। সেই নারীটি ছিলেন সুজান খান। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গাড়ি চালাচ্ছিলেন তিনি। কোনো কিছু না জেনেই প্রথম দেখাতেই সুজানের প্রেমে পড়ে যান হৃতিক। পরে তার এই অনুভূতির কথা ঘনিষ্ঠ বন্ধু কুনাল কাপুরকে জানান; পরবর্তীতে তাদের দেখা করানোর ব্যবস্থা করেন কুনাল।

 

সুজান খানকে দেখে হৃতিক মুগ্ধ হলেও ট্র্যাফিক সিগন্যালে সুদর্শন পুরুষটিকে বিশেষভাবে খেয়াল করেননি তিনি। সুজানের সঙ্গে যখন দেখা হয়েছিল, তখন হৃতিক রোশান উদীয়মান একজন অভিনেতা। নেহা ধুপিয়ার শোয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন সুজান খান। 

এ আলাপচারিতায় সুজান খান বলেন, “আমি পড়াশোনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে আসার পর একজন সুপারস্টারের সঙ্গে দেখা হয়; যদিও তখন সে সুপারস্টার ছিল না। কিন্তু আমার চোখে সে তখনই একজন সুপারস্টার ছিল। এর আগে আমি বুঝতেই পারিনি যে, চলচ্চিত্র জগতের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই। কিন্তু ভাগ্য আমাকে আবার সেই দিকেই ফিরিয়ে আনে। আমি চলচ্চিত্র এবং এই ইন্ডাস্ট্রিকে ভালোবাসি। তবে আমি আমার পেশাগত জায়গায় থাকতে পেরে খুবই আনন্দিত।”

সুজানকে হৃতিকের চিরকুট সুজানের চেয়ে দুই বছরের বড় হৃতিক রোশান। এ যুগল সবসময়ই মনে করতেন, তারা একসঙ্গে থাকবেন। প্রথম দেখাতে প্রেমে পড়ার পর হৃতিক তার অনুভূতি প্রকাশ করতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি। কিছুটা সময় পর, হৃতিক চিঠি লিখে সুজানকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। মিষ্টি চিঠিতে হৃতিক তার হৃদয়ের কথা খুলে বলেন। পরে সেই চিঠির একঝলক সিমি গারওয়ালের অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছিল। হৃতিকের লেখা আবেগঘন কথাগুলো শুনে সবাই মুগ্ধ হয়েছিলেন।

 

চিঠির বয়ান খানিকটা মজারও ছিল। চিঠির এক অংশে হৃতিক লিখেছিলেন—“প্রিয় সুজান, আশা করি, তুমি যখন ক্ষুধার্ত সেই মুহূর্তে এই চিঠি খুঁজে পাবে। আমি শুধু এটুকু বলতে চাই যে, আমি তোমাকে খুব খুব ভালোবাসি এবং সারাজীবন তোমার পাশে থেকে জীবন কাটাতে চাই। তুমি কি রাজি? যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে পাতা উল্টাও, আর যদি ‘না’ হয়, তাহলে তুমি তোমার খাবার খাও।”

হৃতিকের প্রেম প্রস্তাব দেওয়ার আরেকটি স্মরণীয় ঘটনাও শেয়ার করেছিলেন সুজান। ‘কফি উইথ করন’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে তিনি জানিয়েছিলেন, কীভাবে হৃতিক তাকে কফি ডেটে নিয়ে গিয়েছিলেন। কফি শেষ করার পর কাপের ভেতরে কিছু একটা খুঁজে পান সুজান। আর সেই বস্তুটি ছিল একটি আংটি। এটিকে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ধরে হৃতিক তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি সারাজীবন তার সঙ্গে থাকতে চান। সুজান সঙ্গে সঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বলে দেন।

 

ভালোবাসার পরিণয় বলিউডের ‘গ্রিক গড’খ্যাত হৃতিক রোশান তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুই করেন বিয়ের পর। তার অভিষেক সিনেমা ‘কাহো না পেয়ার হ্যায়’। এ সিনেমা দিয়ে হৃতিক সবার নজর কাড়লেও, বাস্তব জীবনে স্ত্রী সুজানের প্রতি সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। ২০০০ সালের ২০ ডিসেম্বর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। ভিন্ন ধর্মের হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আংটি বদল ও শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। 

 

বিয়ে নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে সুজান খান বলেছিলেন, “না হিন্দু, না ইসলামি রীতিতে আমাদের বিয়ে হয়েছে। আসলে আমরা দু’জনেই সবসময় একটি চার্চ ওয়েডিং চেয়েছিলাম। সিনেমায় দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। চার্চের বিয়েগুলো খুব সুন্দর, ছোট আর মিষ্টি হয়। আমরা বেঙ্গালুরুতে কিছু একটা করেছিলাম। গোল্ডেন পামসের পুলটি এশিয়ার সবচেয়ে বড়, এর ঠিক মাঝখানে দ্বীপের মতো একটা জায়গা আছে। পুলের ধার থেকে সেখানে যাওয়ার একটি সেতু ছিল, সেটাই আমাদের আইলের কাজ করেছিল। আমরা পুরো পথটা হেঁটে গিয়ে মাঝখানে দাঁড়াই, শপথ নিই এবং রেজিস্টারে বইয়ে সই করি। এটা চার্চ ওয়েডিংয়ের থেকেও ভালো ছিল। খুবই বিশেষ এবং একেবারে আলাদা ছিল!”

 

হৃতিক-সুজানের পূর্ণতা আত্মার সঙ্গী থেকে জীবনের সঙ্গী—এই যাত্রা হৃতিক-সুজান অত্যন্ত সুন্দরভাবে অতিক্রম করেন। ২০০৬ সালের মার্চে এই দম্পতি আনন্দের সাগরে ভাসেন প্রথম পুত্র হৃহানের জন্মের পর। ২০০৮ সালের মে মাসে দ্বিতীয় পুত্র হৃদান জন্মগ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবার পূর্ণতা পায়।

 

ব্যয়বহুল বিচ্ছেদ ভালোবেসে বিয়ে, তারপর এক যুগের দাম্পত্য জীবন। বিয়ের বারো বছর পূর্ণ করার পর অর্থাৎ, ২০১২ সালের ১৩ ডিসেম্বর হৃতিক রোশান ও সুজান খান বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে সবাইকে চমকে দেন। এতে অনেকেই ভাবতে শুরু করেন—এই দুই অসাধারণ মানুষের মধ্যে ঠিক কী হয়েছিল। তবে বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে দু’জনের কেউই বিস্তারিত তথ্য দিতে রাজি হননি। হৃতিক তার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিবাহবিচ্ছেদের অফিসিয়াল একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তাতে তিনি লেখেন—“সুজান আমার থেকে আলাদা হওয়ার এবং আমাদের ১৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি আমাদের পুরো পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময়।” 

২০১৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ হয় সুজান-হৃতিকের। সংসার ভেঙে গেলেও প্রায়ই দু’জন মিলে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটান। কিন্তু বিচ্ছেদের সময় সুজান ৪০০ কোটি রুপি দাবি করেন। সর্বশেষ ৩৮০ কোটি রুপি গুণতে হয় হৃতিককে। বলিউডের সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিবাহবিচ্ছেদের অন্যতম এটি। 

*বলিউড শাদি ডটকম অবলম্বনে