ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষ হয়েছে। ২৯৭টি আসনের ফলাফল এরইমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েচে। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ফলে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—প্রধানমন্ত্রী কে হবেন এবং মন্ত্রিসভা কীভাবে গঠিত হবে?
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সরকারের প্রধান এবং রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী। ১৯৯১ সালের আগস্টে জাতীয় সংসদে দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে দেশে পুনরায় সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু হয়। এর আগে ১৯৭২-১৯৭৫ সময়কালে সংসদীয় ব্যবস্থা এবং ১৯৭৫-১৯৯১ সময়কালে রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেন কে? সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদের যে সদস্যের প্রতি সংখ্যাগরিষ্ঠ সংসদ সদস্যের সমর্থন রয়েছে বলে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতীয়মান হয়, তাঁকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। রাষ্ট্রপতির নিয়োগের ক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সংসদীয় নেতা প্রধানমন্ত্রী হন।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেহেতু বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই দলটির নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত সংসদীয় নেতাকেই রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন—এটাই সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া।
মন্ত্রীদের নিয়োগ দেন কে? সংবিধানের ৫৫ ও ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদের শীর্ষে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রিসভার অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নির্বাচন করেন এবং রাষ্ট্রপতি তাঁদের নিয়োগ দেন। মন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শই মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
মন্ত্রিপরিষদ যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে। সংবিধান অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদের কমপক্ষে ৯০ শতাংশ সদস্য সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে নিয়োগ পেতে হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নেওয়া যাবে, যারা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী সরকারের ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর পদ কখন শূন্য হয়?
সংবিধানের ৫৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যদি রাষ্ট্রপতির নিকট লিখিতভাবে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদ সদস্যপদ হারান, তাহলে তাঁর পদ শূন্য বলে গণ্য হবে। আবার তিনি যদি সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারান, তাহলে তাঁকে হয় পদত্যাগ করতে হবে, নয়তো রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে সংসদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দিতে হবে।