সারা বাংলা

সিরাজগঞ্জে সিএনজি গ্যাস পাম্পে হামলা, দুর্ভোগে চালক-যাত্রীরা

সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি গ্যাস পাম্পে দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাম্পের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাময়িকভাবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের দিয়ারবৈদনাথ এলাকায় অ্যালবার্ট এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে গভীর রাতে মুখোশ পড়ে ১০/১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অর্তকিতভাবে হামলা চালিয়ে গ্যাস পাম্পের ৩টি ডিসপেন্সার মেশিন, ক্যাশ কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায় দৃর্বৃত্তরা।

এ ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে, গত দুইদিন ধরে গ্যাস পাম্প বন্ধ থাকায় চালক ও যাত্রীরা দুর্ভোগ পড়েছেন। অনেক চালক জ্বালানির সন্ধানে বগুড়া ও শাহজাদপুরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে ভাড়া বৃদ্ধি ও যানবাহন সংকটের আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। শহরের একমাত্র গ্যাস পাম্পে এ ধরনের হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গ্যাস পাম্পের মেশিন অপারেটর ইনচার্জ শামীম হোসেন জানান, রাতের আঁধারে ১০-১২ জনের একটি দল মুখে কালো কাপর বেঁধে পাম্পে প্রবেশ করে অতর্কিতভাবে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে স্টেশনের তিনটি ডিসপেন্সার মেশিন, জেনারেটর রুম, মেশিন রুম, আরএমএস রুম ভাঙচুর করে কাউন্টার থেকে টাকা লুটে করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এসময় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখায়। 

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা অটোরিকশা ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম লিটন বলেন, গ্যাস পাম্প বন্ধ থাকায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার সিএনজি বন্ধ রয়েছে। গভীর রাত থেকে স্টেশনটি বন্ধ থাকার কারণে জেলার প্রায় সাড়ে ৯ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস জ্বালানি সংকটে পড়েছে। দ্রুত গ্যাস পাম্প মেরামত করে গ্যাস চালুর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

অ্যালবার্ট এনার্জি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মালিক লুৎফর রহমান দিলু বলেন, গভীর রাতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে কে বা কারা অতর্কিতভাবে হামলা করেছে। এতে আমার প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি পুলিশকে অবগত করেছি। প্রশাসন বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখছেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।