অমর একুশে বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি শুরুর যে সিদ্ধান্ত বাংলা একাডেমি নিয়েছে, তা পিছিয়ে ঈদের পরে নিতে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ চেয়েছে প্রকাশক ঐক্য।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশক ঐক্যের পক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, “গত প্রায় দেড় বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় প্রকাশনা শিল্প এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তার ওপর সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের কারণে গত দুই মাস দেশের ছাপাখানাগুলো নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় সৃজনশীল বই উৎপাদনের কাজ পুরোপুরি বন্ধ ছিল। কাগজের আকাশচুম্বী দাম এবং সংকটে প্রকাশকরা আজ দিশেহারা।”
“এমন এক বাস্তবতায়, বিদায়ী প্রশাসন ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে মাহে রমজানে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬' আয়োজনের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে। রোজার ফলে দেশের স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরাই বইমেলার প্রাণ। তাদের অনুপস্থিতিতে এবং রোজার মাসে অনুষ্ঠেয় এই মেলা হবে নিশ্চিতভাবেই পাঠকশূন্য ও নিষ্প্রাণ। দেশের ৯০ ভাগ প্রকাশক মনে করছেন, এই সময়ে মেলায় অংশগ্রহণ করা হবে তাদের জন্য ‘ব্যবসায়িক আত্মহত্যা'র শামিল। এই অবস্থায় কাদের স্বার্থ রক্ষার্থে এই মেলা আয়োজনে এত তৎপরতা, এবং এখানে কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে কিনা, সে নিয়ে আমাদের প্রশ্ন জাগে।”
চিঠিতে আরো বলা হয়, “আমরা মেলা বর্জন করতে চাই না, আমরা চাই একটি ‘সফল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মেলা'। আমাদের দাবি ছিল-পবিত্র রমজান ও নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় মেলাটি পিছিয়ে ঈদুল ফিতরের পর আয়োজন করা হোক, যখন পাঠকদের হাতে সময় ও অর্থ উভয়ই থাকবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো উপেক্ষা করে এক প্রকার জোর করেই প্রকাশকদের একটি ব্যর্থ মেলার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। যেই মেলায় দেশের সামনের সারির প্রায় সব প্রকাশকসহ তিন শতাধিক মূল ধারার প্রকাশক অংশ নিতে অপারগ।”
চিঠিতে আরো বলা হয়, “সামনেই আপনি সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। একটি নতুন সরকারের যাত্রা শুরুতে আমরা চাই না একুশের চেতনার এই মেলাটি কোনোভাবে ব্যর্থ বা বিতর্কিত হোক। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার সুচিন্তিত একটি নির্দেশই পারে ধ্বংসের হাত থেকে এই শিল্পকে বাঁচাতে।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, “২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ঘোষিত ‘নামমাত্র' বইমেলা স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করুন। পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর, উৎসবমুখর পরিবেশে এবং সকল প্রকাশকের অংশগ্রহণে একটি পূর্ণাঙ্গ ও প্রাণবন্ত বইমেলা আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণ করুন। আপনার এই একটি সিদ্ধান্ত কেবল হাজারো প্রকাশককে দেউলিয়া হওয়া থেকে বাঁচাবে না, বরং প্রমাণ করবে যে-নতুন সরকার জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং জনমতের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।”