আন্তর্জাতিক

আসামে জরুরি অবতরণ করে বাংলাদেশ ও চীনকে কি বার্তা দিলেন মোদি

আসামে ভোটের আগে রাজনৈতিক ও কৌশলগত - দু’দিকেই বার্তা দিয়ে গেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম জরুরি অবতরণ সুবিধা কেন্দ্র মোরানে সি-১৩০জে সামরিক পরিবহণ বিমানে অবতরণ করলেন তিনি। এক দিনের আসাম সফরের সূচনাতেই এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার, আর রংপুর সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। অপরদিকে, ডিব্রুগড় থেকে চিন সীমান্ত প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যদি ডিব্রুগড় বিমানবন্দর বা চাবুয়া বিমান বাহিনী ঘাঁটি জরুরি পরিস্থিতির কারণে ব্যবহার করা না যায়, তাহলে এই সড়ককে ব্যবহার করা হবে। উত্তর-পূর্ব ভারত নিয়ে বাংলাদেশিদের উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং চীনের চোখরাঙানির মধ্যে মোদির এই অবতরণ এক অভূতপূর্ব ঘটনা।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চাবুয়া এয়ারফিল্ডে নামেন। সেখান থেকে সি-১৩০জে বিমানে চড়ে তিনি পৌঁছন মোরানে। জাতীয় সড়ক-৩৭-এর একটি বিশেষভাবে প্রস্তুত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ শক্তিশালী অংশে তৈরি হয়েছে এই ইমার্জেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি (ইএলএফ)। প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত এই অবকাঠামো ভবিষ্যতে সামরিক ও অসামরিক - দুই ক্ষেত্রেই বিকল্প রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

মোদি আগেই এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছিলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা সঙ্কটকালে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দিতে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও পরিবহণ বিমানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করবে। সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন পর্যন্ত টেক-অফ ওজনের পরিবহণ বিমান এখানে অবতরণ করতে পারবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য হবে এই ইএলএফ।