জুলাই জাতীয় সনদে সংসদে প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষের ১০০টি আসনই রেখে নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে দলগুলোর মধ্যে তা ভাগ করে দেওয়ার বিষয়ে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট না মানা এবং বিজয়ী প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করায় ভোট পুনর্গণনার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেই সুযোগ নিতে হাইকোর্টে রিট করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১ দলের নেতারা জরুরি বৈঠকে বসে নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বৈঠকে শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে দাঁড়িয়ে তাদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
শনিবার ১১ দলের জরুরি বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে আসেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।
তিনি বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পাবে। এক্ষেত্রে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্টের সুযোগ নেই। জনগণ ‘হ্যাঁ’ জয়জুক্ত হওয়ায় নোট অব ডিসেন্টকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।”
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ১১ দলের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ‘ফলাফল জালিয়াতি, ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের’ বিষয়ে আলোচনা হয়। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য আগামীতে সংসদে ও সংসদের বাইরে ভূমিকা রাখবে বলে সিদ্ধান্ত হয়। দেশ, জাতি ও জনগণের স্বার্থে যখন যে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন হবে, তারা একসঙ্গেই তা করবে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে গেজেট প্রকাশ করায় যেসব আসনে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে আরপিও অনুযায়ী ভোট পুনর্গণনার সুযোগ আর নেই। ১১ দলের নেতারা মনে করেন, এতে প্রার্থীরা অধিকারবঞ্চিত হয়েছেন।
ফলে এসব বিষয় নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে রিট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১১ দল।
বৈঠকের আলোচনা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য গণভোট হয়েছে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হওয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষে ১০০ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন পাবে। এক্ষেত্রে কোনো দলের নোট অব ডিসেন্টের সুযোগ নেই। সংসদ চালু হওয়ার পর ১৮০ দিনের মধ্যে যাতে পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়, সেই দাবিতে জোর দেওয়া হয়।
নির্বাচনের আগে ও পরে ১১ দলীয় ঐক্যের নারীসহ অনেক নেতাকর্মীর ওপর সহিংসতার ঘটনায় বৈঠকে তুলে ধরে সেসবের নিন্দা জানানো হয়।
ঐক্যের নেতারা বলেছেন, সহিংসতা বন্ধ না করলে জনগণকে নিয়ে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নেবে ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে ফ্যাসিবাদীদের সঙ্গে আঁতাত না করে জনপ্রত্যাশার আলোকে গণতান্ত্রিক ধারায় রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
ঐক্যের নেতাদের দাবি, নির্বাচনে ৩০টির বেশি আসনে ভোট কারচুপি হয়েছে। এই বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা নির্বাচন কমিশনে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের, জাতীয় নাগরিক পার্টির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মুনিরা শারমীন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াযী উপস্থিত ছিলেন।