সারা বাংলা

হান্নানের আবদার, ‘বিএনপি আমাকে গ্রহণ না করা পর্যন্ত শপথ নেবে না’

মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহ করেছিলেন চাঁদপুরের বিএনপি নেতা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ হান্নান। নির্বাচনি এলাকায় জনপ্রিয়তার ওপর আস্থা রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন, দল তাকে বহিষ্কার করে। অবশ্য চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তার প্রমাণও রেখেছেন। তবে দলের প্রতি অনুরক্ততার দাবি তুলে বিএনপিতে ফেরার জোরালো অবদার করেছেন তিনি। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপির প্রতি ভক্তি-শ্রদ্ধায় এখনো অটুট থাকার দাবি করে হান্নান বলেন, ‍“আমার প্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি আমাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করা পর্যন্ত আমি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করব না। দলীয় আদর্শ ও রাজনীতির প্রতি আমার আজীবনের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।”

এই সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি ছিলেন ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম ফরহাদ। 

শুরুতে ফরিদগঞ্জ আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এমএ হান্নান মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে নির্বাচিত করায় দলমত নির্বিশেষে ফরিদগঞ্জবাসী, স্থানীয় প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‍্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাংবাদিক ও তার নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচনের পরপরই ভোটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কৃতজ্ঞতা জানানোর ইচ্ছা ছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা ও হৃদযন্ত্রে রিং বসানোর কারণে তাৎক্ষণিক গণসংযোগ করতে পারিনি। এ জন্য দুঃখিত।

সংবাদ সম্মেলনে হান্নান দাবি করেন, ছাত্রজীবন থেকে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে বিএনপির রাজনীতি করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও করবেন। 

তিনি অভিযোগ করেন, একটি ‘কুচক্রী মহল’ অতীতে তার দলীয় মনোনয়ন বাতিল করাতে ভূমিকা রেখেছিল এবং এবারও একই ধরনের ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে। তবে ফরিদগঞ্জের জনগণ ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ সমর্থনে তিনি জনগণের প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নির্বাচন করিনি; নির্বাচন করেছি একটি জনবিচ্ছিন্ন চক্রের বিরুদ্ধে।”

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত পক্ষ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সহিংসতা ও অপপ্রচারে জড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশাসনের প্রতি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।

নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার জন্মের পর এই প্রথম দেখামতে ফরিদগঞ্জে একটি স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।” নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগকে তিনি ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য তার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, “কেউ যেন অতি উৎসাহে এমন কোনো কাজ না করেন, যাতে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হয়। আইন ভঙ্গ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না; এক্ষেত্রে আমি জিরো টলারেন্স।”

সংসদের প্রাথমিক কার্যক্রম শেষে পবিত্র রমজান মাসে ফরিদগঞ্জের প্রতিটি এলাকায় গিয়ে জনগণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়ে তিনি দোয়া কামনা করেন, যাতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনটিতে অন্যান্যের মধ্যে বিএনপি নেতা সফিউল আলম বাশার মুকুল পাটওয়ারী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেন, ডা. আবুল কালাম আজাদ, সাবেক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আমানত গাজী, সাবেক কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী, উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আমজাদ হোসেন সিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী, এমএ হান্নানের পুত্র আব্দুল্লাহ্ ইবনে হান্নান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মেহেদী হাসান মঞ্জুর, সদস্য সচিব আবু ইউসুফ শাওন চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান সংবাদ সম্মেলন শেষে হান্নানকে ফুলের মালা পরিয়ে দেন।