যে প্রশ্নটা করা হয়েছিল সালমান আগাকে। পাকিস্তানের অধিনায়ক হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করছেন যিনি। ঠিক একই প্রশ্ন করা হয়েছিল ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে? ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা কী হ্যান্ডশেক করবেন?
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বরিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মুখোমুখি হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দল। নানা ঘটনা প্রবাহে এই ম্যাচটা বাড়তি সময়ের চেয়ে বেশি উন্মাদনা ছড়াচ্ছে। ফলে প্রশ্নটি জোরালোভাবেই শোনা যাচ্ছে সব মহলে।
তা ছাড়া এই ম্যাচ পাকিস্তান বয়কট করতে চেয়েছিল। ৮ দিন অপেক্ষার পর পাকিস্তান নিজেদের সিদ্ধান্ত পাল্টালে ক্রিকেট বিশ্ব হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। কেননা ক্রিকেট বিশ্বের আয়ের একটা বড় অংশ আসে তো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে।
মাঠের ক্রিকেট নিয়ে যতটা না আলোচনা, দুই দলের স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে এখন খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বেশি। শেষ তিনটি ম্যাচের মুখোমুখিতেই টসের সময় দুই দলের অধিনায়ক পরস্পরকে এড়িয়ে গেছেন। ম্যাচ শেষে দুই দল দেখায়নি স্পোর্টসম্যানশিপ। এবার কি বৈরিতা ভুলে স্পিরিট অব দ্য গেম দেখাবেন তারা?
গতকাল দুপুরে অনুশীলনের আগে সালমান আগা এই প্রশ্নের জবাবের জন্য অপেক্ষায় থাকতে বলেছিলেন। সূর্যকুমারও সেই একই বার্তা দিয়েছেন। সঙ্গে কিছু মজাও করেছেন, ‘‘২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। ভালোমতো খাওয়াদাওয়া করুন, ভালোভাবে ঘুমান, আমরা আগামীকালই (আজ) দেখব।’’
দুই দল শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল ২০২৫ সালে এশিয়া কাপ ফাইনালে। ম্যাচের আগে অধিনায়করা হ্যান্ডশেক করেননি। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এসিসির প্রধান পাকিস্তানের মহসিন নাকভি হওয়ায় তার হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেননি ভারত টিমের অধিনায়ক। বাধ্য হয়ে নাকভি ট্রফি নিয়ে চলে যান। ভারত শিরোপা ছাড়াই করে উৎসব। এসব নিয়ে আইসিসি বৈঠকেও হয়নি কোনো সুরহা।
সূর্যকুমার মাঠের স্পোর্টসম্যানশিপ নিয়ে তেমন জোর দিলেন না আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে, ‘‘রহস্যটা (হ্যান্ডশেক) আগামীকালই (আজ) ভাঙা যাক। আমি তো এইমাত্র এটা নিয়ে বললাম। কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? আপনারাই বলুন। খেলাটাই আসল। আগে ম্যাচটা খেলি। টসের সময় হ্যান্ডশেক হবে কি হবে না, সেটা আমরা আগামীকাল দেখব। শুধু ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।’’
এর আগে সালমান আগা বলেছিলেন, ‘‘আমরা আগামীকাল এটি সম্পর্কে দেখব।’’
তবে ক্রিকেট মাঠে খেলার স্পিরিট এবং স্পোর্টসম্যানশিপ দেখানোর পক্ষে পাকিস্তানের অধিনায়ক বলেন, ‘‘ক্রিকেট সঠিক চেতনায় খেলা উচিত। আমার ব্যক্তিগত মতামত হয়তো গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু ক্রিকেট যেভাবে খেলা হয়ে আসছে, সেই অনুযায়ী খেলা উচিত।’’