ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঘোষিত ফলাফলে বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পাওয়ায় খুলনার ছয়টি আসনে ২৬ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে খুলনার ছয়টি আসনে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে ২৬ জন জামানত হারিয়েছেন।
খুলনা-১ আসনের ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্গত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায় (কাস্তে), ইসলামী আন্দোলনের মো. আবু সাঈদ (হাতপাখা), জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত (তারা), বাংলাদেশ মাইনরিটি জাতীয় পার্টির প্রবীর গোপাল রায় (রকেট), গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান (ট্রাক), বাংলাদেশ সম অধিকার পরিষদের সুব্রত মণ্ডল ( দোয়াত কলম) এবং দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল (ঘোড়া) ও গোবিন্দ হালদার (কলস)।
খুলনা-২ আসনে তিন প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আমানুল্ল্যাহ (হাতপাখা) জামানত হারিয়েছেন।
খুলনা-৩ আসনে ১০ প্রার্থীর মধ্যে ৮জনই জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মো. আব্দুল আউয়াল (হাতপাখা), বাসদের জনার্দন দত্ত (মই), এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন (সিংহ), জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (লাঙ্গল) এবং স্বতন্ত্র মো. মুরাদ খান লিটন (ঘুড়ি), মঈন মোহাম্মদ মায়াজ (ফুটবল), এসএম আরিফুর রহমান মিঠু (হরিণ) ও মো. আবুল হাসনাত সিদ্দিক (জাহাজ)।
খুলনা-৪ আসনে দুইজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহম্মেদ সেখ (হাতপাখা) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম আজমল হোসেন (ফুটবল)।
খুলনা-৫ আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে দুইজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির চিত্ত রঞ্জন গোলাদার (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির শামিম আরা পারভীন ইয়াসমীন (লাঙ্গল)।
খুলনা-৬ (কয়রা ও পাইকগাছা) আসনের পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে তিনজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলনের মো. আছাদুল্লাহ ফকির (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল (কাস্তে) ও জাতীয় পার্টির মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর (লাঙ্গল)।
খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফয়সল কাদের বলেন, “নির্বাচনে প্রদত্ত বৈধ ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট যদি কোনো প্রার্থী না পান, তাহলে তিনি জামানত হারাবেন।”
খুলনার ছয়টি আসনে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এবারের নির্বাচনে খুলনায় ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে বিএনপি এবং দুইটিতে জামায়াত জয়লাভ করেছেন।
বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফলাফলের তথ্যানুযায়ী, খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান, খুলনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা-৩ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল, খুলনা-৪ আসনে বিএনপির আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা-৫ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আলি আসগর লবি এবং খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম আজাদ বিজয়ী হয়েছেন।