ভারত–পাকিস্তান মহারণ আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আজকের এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা চরমে। কারণ, ম্যাচটি ঘিরে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল—পাকিস্তান বয়কটের ডাক দিয়েছিল। তবে ৮ দিনের অনিশ্চয়তা শেষে তারা খেলতে সম্মত হলে স্বস্তি ফিরে আসে ক্রিকেট বিশ্বে। এখন শুধু অপেক্ষা—বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বল গড়ানোর।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। ‘অপারেশন সিঁদুর’ ও ‘অপারেশন বুনিয়ান আন মারসুস’-এর প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক এখন তলানিতে। দিল্লি ও ইসলামাবাদের মতোই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুই দলের সাবেক ক্রিকেটারদের ভেতরেও যুদ্ধংদেহী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। এর ছাপ দেখা যাচ্ছে মাঠেও—টসের সময় অধিনায়কদের হাত না মেলানো, ম্যাচ শেষে স্পোর্টসম্যানশিপের অভাব—সব মিলিয়ে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের ভেতর-বাইরে। এমনকি এশিয়া কাপের ফাইনালে ট্রফি প্রদান নিয়েও তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ না থাকায় আইসিসি ও এসিসির টুর্নামেন্টেই কেবল মুখোমুখি হয় দুই দল। তাই প্রতিবারই এই লড়াই বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথে পরিণত হয়। কলম্বোর এই ম্যাচও তার ব্যতিক্রম নয়—চার ঘণ্টার এই লড়াই যেন ব্লকবাস্টার এক প্রদর্শনী।
ম্যাচে নজর থাকবে পাকিস্তানের রহস্যময় স্পিনার উসমান তারিকের দিকে। একসময় ক্রিকেট ছেড়ে দুবাইয়ে সেলসম্যানের কাজ করা তারিক এম এস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে আবার ক্রিকেটে ফেরেন। তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও আইসিসি তাকে অনুমতি দিয়েছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিন-এর মতো অভিজ্ঞরাও তার অ্যাকশনকে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। অধিনায়ক সালমান আগা তাকে দলের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে দেখছেন।
পরিসংখ্যান অবশ্য ভারতের পক্ষেই কথা বলছে। গত ১৯ বছরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল আটবার মুখোমুখি হয়ে সাতবারই হেরেছে পাকিস্তান।
তবে ম্যাচে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে আবহাওয়া। কলম্বোতে বিকেল ৫টা থেকে ৭টার মধ্যে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে ভারত। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট পেলেও রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে পাকিস্তান। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দুই দলই পাবে এক পয়েন্ট করে। উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বে কোনো রিজার্ভ ডে নেই।